‘অক্ষরে সাজাই বর্ণমালা, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ, পরিচয় আমার বাঙালি, নেই বিদ্বেষ। একই আকাশ, একই বাতাস, একই মাটির টান—ফোবানা মানে প্রবাসের বুকে বাংলাদেশের সম্মান।’-এই থিম সংয়ের মধ্য দিয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে উৎসর্গ করে নিউইয়র্কের ইভানজেল খ্রিস্টিয়ান সেন্টারে ৪, ৫ ও ৬ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হলো তিন দিনব্যাপী ৪০তম ফোবানা সম্মেলন।
সম্মেলনের উদ্বোধন করেন আয়োজক কমিটির আহবায়ক নূরুল আমীন বাবু। প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করেন প্রধান উপদেষ্টা, একুশে পদকপ্রাপ্ত লেখক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. নুরুন নবী। বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন ফোবানা চেয়ারম্যান জাকারিয়া চৌধুরী।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিনেটর জন লু, আফ্রিকান উইমেন ফেডারেশনের প্রতিনিধি, ডেমোক্র্যাট ড. দিলীপ নাথ, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, সাবেক প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান, বিজ্ঞানী ড. জিনাত নবী, সাবেক হুইপ নজরুল ইসলাম বাবু, বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন, প্রবীণ সম্পাদক মুহাম্মদ ফজলুর রহমান, ওয়াশিংটন থেকে আগত সাংবাদিক দস্তগীর জাহাঙ্গীর, দিল্লিতে নিযুক্ত সাবেক প্রেস মিনিস্টার শাবান মাহমুদ, ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের সাবেক প্রেস মিনিস্টার সাজ্জাদ হোসেন সবুজ, ফোবানা এক্সিকিউটিভ কমিটির সেক্রেটারি দেওয়ান মনিরুজ্জামান, হোস্ট কমিটির সদস্যসচিব ছড়াকার মনজুর কাদের, চীফ পেট্রন শফিক আলম, কমিউনিটি একটিভিস্ট মিনহাজ আহমেদ, সাংবাদিক আব্দুল হামিদ, পিনাকী তালুকদার, একটিভিস্ট রামদাস ঘরামী, বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সভাপতি আব্দুল কাদের মিয়া, রাফায়েত চৌধুরী, সিরাজুল ইসলাম, সুব্রত তালুকদার এবং জাতিসংঘে কর্মরত মানবাধিকার কর্মী ব্যারিস্টার ড. এনামুল হকসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্টেট ও কানাডা থেকে আগত নেতৃবৃন্দ।
উদ্বোধনী পর্বে বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। উদ্বোধনী সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী শাহ মাহবুব ও বিন্দু কনা। নাচ, গান, কবিতা ও গীতিনাট্য পরিবেশন করে উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পারফর্মিং আর্টস (বিপা)-এর শিক্ষার্থীরা।
সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে উপস্থিত দর্শক ও আয়োজকদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। তিনি প্রবাসীদের অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং দেশের প্রয়োজনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও সংগঠিত হওয়ার আহ্বান জানান।
ফোবানার দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং প্রবীণ মা-বাবাদের নিয়ে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। ছিলো তরুণদের সঙ্গে মতবিনিময়। সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার জন্য শিল্পী, সংগঠক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মাননা প্রদান করা হয়।
সম্মেলনে ওয়াশিংটন ডিসিকে ৪১তম ফোবানা সম্মেলনের ভেন্যু হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এ সময় ৪১তম ফোবানা আয়োজক কমিটির নতুন সভাপতি দস্তগীর জাহাঙ্গীর ও সাধারণ সম্পাদক ড. মোহাম্মদ হোসেনের হাতে ফোবানার পতাকা হস্তান্তর করেন চেয়ারম্যান জাকারিয়া চৌধুরী ও সম্পাদক দেওয়ান মনিরুজ্জামান।
তিন দিনব্যাপী এই আয়োজনের বিভিন্ন পর্বে সংগীত পরিবেশন করেন বাংলাদেশ থেকে আগত জনপ্রিয় শিল্পী আঁখি আলমগীর, স্বনামধন্য কণ্ঠশিল্পী দিনাত জাহান মুন্নী, নজরুলসংগীত শিল্পী দিনার মণি, তরুণ প্রজন্মের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী আলভান চৌধুরী, সাগ্নিক মজুমদার, জেরিন মাইশা, বাউল মেলাল করিমসহ আরও অনেকে।
কনভেনশন সেন্টারের লবিতে দেশীয় পণ্যের মেলা বসেছিলো। সাংস্কৃতিক সংগঠক গোপাল সান্যাল এর উদোগে বসেছিলো বুকস্টল, যেখানে বিক্রি হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সহ প্রগতিশীল গ্রন্থ।
অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয় প্রয়াত চিত্রনায়ক সালমান শাহর ৩০তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে। চিত্রনায়িকা মৌসুমী গানে গানে স্মরণ করেন সালমান শাহকে। ‘ও আমার বন্ধু গো, চিরসাথী পথচলা’ গানটি কান্নাবিজড়িত কণ্ঠে যখন মৌসুমী পরিবেশন করেন, তখন হলভর্তি দর্শকের মাঝে নেমে আসে পিনপতন নীরবতা।
আয়োজকদের মতে, তিন দিনের এই সম্মেলন শুধু বিনোদন ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং প্রবাসে বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও বাংলাদেশকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা বাঙালিদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সম্প্রীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছিলো।