শুক্রবার ২১ আগস্ট ২০২৬ ৬ ভাদ্র ১৪৩৩
 
শিরোনাম:


শেরপুরে খাল পুনঃখনন শেষে সরকারি কোষাগারে ফিরল ৬৮ লাখ টাকা
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৫৬ পিএম  (ভিজিট : ১৫)
শেরপুর সদর উপজেলার কামারেরচর ইউনিয়নে খাল পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ শেষ করে অব্যয়কৃত ৬৮ লাখ ২৬ হাজার ৩৮৭ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমা বিনতে রফিক। প্রকল্পের আওতায় ৪.২২৫ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের পাশাপাশি কৃষকদের সেচ সুবিধা বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য বৃক্ষরোপণসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে।

এদিকে, ডসংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য সানসিলা জেব্রিন প্রিয়াঙ্কা এই পুনঃখাল খনন উদ্বোধন থেকে খনন কাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত সরাসরি তত্ত্বাবধান করেন।

'অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান' 
(ইজিপিপি) প্রকল্পের আওতায় দেশব্যাপী খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে শেরপুর সদর উপজেলার কামারেরচর ইউনিয়নের সাহাবদিরচর থেকে কামারেরচর বাজার হয়ে পায়েস্তিরচর পর্যন্ত কাটাখালী খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়২০২৫-২৬।কৃষি জমিতে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি এবং জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন শেরপুর সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন ইউনিট প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে। এই প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছিল মোট ২.৫৭ কোটি টাকা।

এর মধ্যে শুধু শ্রম বাবদ ১২ কোটি ৭০ লাখ ৮০ হাজার ৬৯৯ টাকা এবং নদী খননের জন্য একটি ব্যাকহো মেশিন, ১৬০টি রিং কালভার্ট, ৩টি কাঠের সেতু, ৩টি ইউ-ড্রেন, বিভিন্ন গাছের ২ হাজার চারা রোপণ এবং গাছ রক্ষায় ১২ কোটি ৯৯ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে।

১৩মে, ২০২৬ তারিখে, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ডাঃ সানসিলা জেব্রিন প্রিয়াঙ্কা পস্তিরচর এলাকায় প্রকল্পের খনন কাজের উদ্বোধন করেন। পরে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খনন কাজ শেষ হয়। কাজ শেষ হওয়ার পর গত ১৩ আগস্ট অব্যয়কৃত বরাদ্দ ৬৮ লাখ ২৬ হাজার ৩৮৭ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হয়।

প্রকল্পের আওতায় মোট ৪.২২৫ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হয়েছে। খালের দুই পাশে প্রায় ১ হাজার ৬০০ গাছ লাগানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কৃষ্ণচূড়া, বকুল, জারুল ও সোনালুসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ।

এ ছাড়া খালটিকে কৃষক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘমেয়াদে ব্যবহার উপযোগী করতে ১৬০টি রিং কালভার্ট, তিনটি কাঠের সেতু ও তিনটি ইউ-ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে। এতে খালের দুই পাশের মানুষের যাতায়াতের সুবিধার পাশাপাশি কৃষি জমিতে পানি সরবরাহ ও নিষ্কাশনের সুবিধা বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

প্রকল্প বাস্তবায়ন শাখা সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন প্রায় ৫৯৫ জন শ্রমিক খননে কাজ করেন। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে একদিকে যেমন অত্যন্ত দরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে ভরাট খালটি পুনঃখননের ফলে কৃষি, মৎস্য চাষ ও স্থানীয় পরিবেশে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।

শেরপুর সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ও প্রকল্পের সদস্য সচিব রাকিবুল হাসান বলেন, "আমাদের প্রকল্পের কাজ ১৩ মে শুরু হয়ে ৩০ জুন শেষ হয়। এখানে প্রতিদিন প্রায় ৫৯৫ জন শ্রমিক কাজ করত। আমরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভালোভাবে কাজ শেষ করতে পেরেছিখাল পুনঃখননের ফলে কৃষক, জেলে ও এলাকার সাধারণ মানুষ উপকৃত হয়েছেন।” তিনি আরও বলেন, “৪.২২৫ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের কাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে বৃষ্টির কারণে মাটি সরে গিয়ে কোথাও কোথাও গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি কমলে সেগুলোও মেরামত করা হবে।”

শেরপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও প্রকল্পের সভাপতি আসমা বিনতে রফিক জানান, প্রকল্পের আওতায় ৪ দশমিক ২২৫ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হয়েছে। কাজ শেষ হওয়ার পর অব্যয়কৃত বরাদ্দ ৬৮ লাখ ২৬ হাজার ৩৮৭ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে। এই খাল পুনঃখনন প্রকল্প এলাকার কৃষকদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে।

তিনি বলেন, খালটি পুনঃখননের ফলে কৃষি জমিতে সেচের পানি সরবরাহ সহজ হবে এবং জলাবদ্ধতা কমবে। এ ছাড়া খালের দুই পাশে গাছ লাগানো হয়েছে, যা পরিবেশের জন্যও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, "খাল পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্পটি সম্পন্ন হওয়ার পরই এলাকার সাধারণ মানুষ এর সুফল পেতে শুরু করেছে। বর্তমানে খালে নৌকা চলাচল করছে এবং পর্যাপ্ত দেশি মাছও পাওয়া যাচ্ছে।"

তিনি আরও বলেন, কৃষকদের ফসলের ক্ষেতে সেচের পানির ঘাটতি অনেকটাই কমে যাবে। এতে শেরপুরে সবজি থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের ফসলের উৎপাদন বাড়বে বলে আমরা আশা করছিএকই সঙ্গে খালের দুই পাশে গাছ লাগানোর ফলে প্রাকৃতিক পরিবেশও শোভা পাচ্ছে। .প্রকল্পের অব্যয়কৃত ৬৮ লাখ ২৬ হাজার ৩৮৭ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত এসেছে, যা সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতার একটি ভালো উদাহরণ।








আরও খবর


Loading...
Loading...
প্রকাশক: এম এন এইচ বুলু
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মাহফুজুর রহমান রিমন  |   উপদেষ্টা সম্পাদক : রাজু আলীম  
বিএনএস সংবাদ প্রতিদিন লি. এর পক্ষে প্রকাশক এম এন এইচ বুলু কর্তৃক ৪০ কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ, বুলু ওশেন টাওয়ার, (২১ তলা), বনানী, ঢাকা ১২১৩ থেকে প্রকাশিত ও শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৩৪ ফকিরাপুল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত।
ফোন:০২৯৮২০০১৯-২০ ফ্যাক্স: ০২-৯৮২০০১৬ ই-মেইল: [email protected]