শুক্রবার ২১ আগস্ট ২০২৬ ৬ ভাদ্র ১৪৩৩
 
শিরোনাম:


শেরপুরে ১০ কোটি ৮২ লাখ টাকার আধুনিক কসাইখানা, ৩ মাসেও জবাই হয়নি একটি পশু
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৩৩ পিএম  (ভিজিট : ২৩)
শেরপুর পৌর শহরের দমদমা-কালীগঞ্জ এলাকায় বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে প্রায় ১০ কোটি ৮২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে আন্তর্জাতিক মানের জেলা কসাইখানা। স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে পশু জবাই ও মাংস প্রক্রিয়াজাতের লক্ষ্যে নির্মিত প্রতিষ্ঠানটি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তরের প্রায় তিন মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো এখানে একটি পশুও জবাই হয়নি। ফলে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আধুনিক স্থাপনাটি কার্যত অচল হয়ে পড়ে আছে।

স্থানীয় কসাইদের অভিযোগ, শহর থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে কসাইখানাটি হওয়ায় সেখানে পশু নিয়ে গিয়ে জবাই করে আবার মাংস শহরে এনে বিক্রি করা তাদের জন্য ব্যয়বহুল। এতে পরিবহন খরচ বাড়বে এবং ব্যবসায় লাভ কমে যাবে। এ ছাড়া অনেক ক্রেতাই নিজেদের চোখের সামনে পশু জবাই করা দেখতে চান বলেও দাবি করেন কসাইরা।

জানা গেছে, শেরপুরে স্বাস্থ্যসম্মত ও আধুনিক পদ্ধতিতে পশু জবাই এবং মাংস প্রক্রিয়াজাতের লক্ষ্যে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের এলডিডিপি প্রকল্পের আওতায় বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে প্রায় ১০ কোটি ৮২ লাখ টাকা ব্যয়ে জেলা কসাইখানাটি নির্মাণ করা হয়। প্রায় তিন মাস আগে আনুষ্ঠানিকভাবে এটি শেরপুর পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন কসাইখানাটির কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। সেখানে কেবল একজন কেয়ারটেকারকে পাওয়া যায়। পশু জবাই, মাংস প্রক্রিয়াজাত বা বাজারজাতকরণের কোনো কার্যক্রম চোখে পড়েনি।

শহরের চাপাতলী এলাকার কসাই রাসেল বলেন, ‘শহর থেকে দূরে গিয়ে পশু জবাই করে মাংস নিয়ে আসলে অতিরিক্ত গাড়িভাড়া দিতে হবে। এতে আমাদের ব্যবসায় লোকসানের আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি ক্রেতাদের বড় একটি অংশ সামনে পশু জবাই না দেখলে মাংসের মান নিয়ে সন্দেহ করেন। এসব কারণে আমরা কসাইখানাটি ব্যবহারে আগ্রহী নই।’

কসাই কুরবান বলেন, ‘কসাইখানাটি শহরের এক পাশে, যেখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলা হয়। সব সময় ওই এলাকায় দুর্গন্ধ থাকে। সেখানে এত বড় একটি কসাইখানা করা হয়েছে, এ বিষয়ে আমাদের সঙ্গে কেউ আলোচনা করেনি।’

স্থানীয় কসাই সুজন বলেন, ‘শহরের এক পাশে কসাইখানাটি হওয়ায় পরিবহন খরচ বেশি পড়বে। এতে মাংসের দামও বেড়ে যেতে পারে। কসাইখানাটি যদি শহরের ভেতরে চাপাতলী এলাকায় করা হতো, তাহলে আমাদের জন্য সুবিধা হতো।’

স্থানীয়রা জানান, আধুনিক কসাইখানাটি দ্রুত চালু করা হলে স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ মাংস সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে পরিবেশদূষণ ও অপরিকল্পিতভাবে পশু জবাইয়ের সমস্যাও কমবে।

শেরপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রেজওয়ানুল হক ভূঁইয়া বলেন, ‘এটি আন্তর্জাতিক মানের কসাইখানা। সারা দেশে নির্মিত ১৭টি আধুনিক কসাইখানার মধ্যে শেরপুরেরটিও একটি। এখান থেকে ভবিষ্যতে প্রক্রিয়াজাত মাংস বিদেশে রপ্তানির পরিকল্পনা রয়েছে। স্থানীয় মানুষকে মানসম্মত মাংস সরবরাহের লক্ষ্যেও এটি নির্মাণ করা হয়েছে। তবে কসাইখানাটি চালু ও পরিচালনার মূল দায়িত্ব পৌরসভার।’

শেরপুর পৌরসভার প্রশাসক আরিফা সিদ্দিকা বলেন, ‘গত জুন মাসে আমরা কসাইখানাটি বুঝে পেয়েছি। এটি শহর থেকে কিছুটা এক পাশে হওয়ায় কসাইরা সেখানে যেতে অনীহা প্রকাশ করছেন। তবে খুব শিগগিরই জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর, কসাই ও পৌরসভা—এই তিন পক্ষ মিলে বৈঠক করা হবে। দ্রুত একটি ইতিবাচক সমাধানে পৌঁছে কসাইখানাটি চালু করা হবে।’

প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আধুনিক এই স্থাপনার কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় সরকারি অর্থের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। শেরপুরবাসীর প্রত্যাশা, দ্রুত ত্রিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে জটিলতার সমাধান করে কসাইখানাটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা হবে।








আরও খবর


Loading...
Loading...
প্রকাশক: এম এন এইচ বুলু
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মাহফুজুর রহমান রিমন  |   উপদেষ্টা সম্পাদক : রাজু আলীম  
বিএনএস সংবাদ প্রতিদিন লি. এর পক্ষে প্রকাশক এম এন এইচ বুলু কর্তৃক ৪০ কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ, বুলু ওশেন টাওয়ার, (২১ তলা), বনানী, ঢাকা ১২১৩ থেকে প্রকাশিত ও শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৩৪ ফকিরাপুল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত।
ফোন:০২৯৮২০০১৯-২০ ফ্যাক্স: ০২-৯৮২০০১৬ ই-মেইল: [email protected]