বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার ফয়লাবাজারে পচা ও অস্বাস্থ্যকর মাংস বিক্রির অভিযোগে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে দুই মাংস বিক্রেতাকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসনের এ অভিযানে স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
রোববার (৭ জুন) সকাল ৯টার দিকে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ফয়লাবাজার এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন রামপাল উপজেলার এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট অভিজিৎ চক্রবর্তী। এ সময় বাজারে বিক্রির জন্য রাখা মাংস পরীক্ষা করে পচা ও অস্বাস্থ্যকর মাংসের উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত ফয়লাবাজার এলাকার মাংস বিক্রেতা হারুনর রশিদ (৪০) ও ইয়ামিন হাওলাদার (২৮)-কে প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড এবং ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।
জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাজারে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় পচা ও স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ মাংস বিক্রির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রচলিত আইনের আওতায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
রামপাল উপজেলার এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট অভিজিৎ চক্রবর্তী বলেন, “জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, পচা ও ভেজাল খাদ্য বিক্রির বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। কোনো ব্যবসায়ী জনগণের স্বাস্থ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে পারবে না। বাজারে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি ও অভিযান পরিচালনা করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, বাজারের অন্যান্য ব্যবসায়ীদেরও সতর্ক করা হয়েছে, যাতে তারা স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্যপণ্য বিক্রি করেন। অন্যথায় ভবিষ্যতে আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে, দীর্ঘদিন ধরে বাজারে নিম্নমানের ও অস্বাস্থ্যকর মাংস বিক্রির অভিযোগ থাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা এ অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, প্রশাসনের এমন নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকলে বাজারে খাদ্যের মান উন্নত হবে এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদ খাদ্য গ্রহণের সুযোগ পাবে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, পচা ও দূষিত মাংস মানবদেহে বিভিন্ন ধরনের রোগের কারণ হতে পারে। তাই খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পাশাপাশি ব্যবসায়ী ও ভোক্তা—সবার সচেতনতা প্রয়োজন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, ভেজাল ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যের বিরুদ্ধে প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালিত হলে বাজার ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরবে এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।