জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদেরকে নিয়ে সমালোচনা করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেন, তারা বাংলাদেশে রাজনীতির কথা বলছে এটাই তো সবচেয়ে অবাক করা বিষয়। যিনি শেখ হাসিনার আমলে নির্বাচনের আগে ভারত থেকে ফিরে এসে সাংবাদিকদের বলেন, ‘ভারতের অনুমতি ছাড়া কিছু বলা যাবে না’। সেই ব্যক্তি বাংলাদেশে রাজনীতি কীভাবে করেন।
রোববার (৩১ আগস্ট) গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে দেখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, জাতীয় পার্টি তো দেশকে বিশ্বাস করে না, এরা নির্বাচন করবে কীভাবে। ভারতের অনুমতি ছাড়া যারা কথা বলতে রাজি নয়, তারা নানান ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে উসকানি দিচ্ছে কি না এ নিয়ে জনগণের সন্দেহ হচ্ছে।
তিনি বলেন, নুরুল হক নুরের ওপর আক্রমণটা পূর্বপরিকল্পিত বলে আমার কাছে মনে হয়েছে। পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে টার্গেট করা হয়েছে, আঘাত করা হয়েছে এবং উদ্দেশ ছিল একেবারে মেরে ফেলার। নুর ছিল ফ্যাসিবাদী সরকারের শিকার। তাকে আঘাত করতেই হবে, তাকে মারতেই হবে। সবচেয়ে খারাপ উদ্দেশ্য ছিল, তাকে মেরে ফেলতে হবে।
বিএনপি নেতা বলেন, পরশুদিনের যে ঘটনা নুর প্রতিবাদ জানাচ্ছিলেন, সেখানে কোনো সন্ত্রাসী-সহিংস ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু তার ওপরে যে আঘাতটা হয়েছে সেটা নির্মম। সেটা যারাই করুক তারা একটা বৃহৎ পরিকল্পনার অংশ বলে আমি মনে করি।
রিজভী বলেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গভীর চক্রান্তের অংশ এবং ৫ আগস্টের পরাজিত শক্তিরাই আজকে নানাভাবে নানা কায়দায় তারা তাদের বিষদাঁত বসানোর চেষ্টা করছে।
জাতীয় পার্টির নিষিদ্ধের দাবির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে রিজভী বলেন, এ ব্যাপারে দল সিদ্ধান্ত নেবে। ফ্যাসিস্টের দোসররা কখনোই বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং গণতন্ত্রকে স্থিতিশীল হতে দেবে না। কারণ তাদের হাতে অনেক টাকা আছে এবং এখনো সেখানে টাকা যাচ্ছে। যে টাকাগুলো পাচার হয়েছে সেটাও তো শেখ হাসিনার হাতে গিয়ে দিয়ে আসা হচ্ছে। আড়াই হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে, আবার দুই হাজার কোটি টাকা দেওয়া হবে। তাহলে তারা তো বসে নেই। চক্রান্তের নানা জাল রচনা করছে।
নুরুল হক নুরের সুস্থতা কামনা করে রিজভী বলেন, প্রয়োজনে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দেশের বাইরে নিয়ে চিকিৎসা করানো হোক।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, ছাত্রদলের সহ-সভাপতি তৌহিদুর রহমান আউয়াল প্রমুখ।