জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব, পরিবেশগত সংকট এবং মানবাধিকার সুরক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে নতুন প্রজন্মকে সচেতন করে তুলতে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে একটি ব্যাপক সচেতনতামূলক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক এ কর্মসূচিতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো।
রবিবার (২ আগস্ট ২০২৬) উপজেলার আব্দুল আজিজ মেমোরিয়াল বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (কোডেক) কর্তৃক বাস্তবায়িত এনগেজ (ENGAGE) প্রকল্পের আওতায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য ছিল জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা, পরিবেশ সংরক্ষণে জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর মানবাধিকার সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী অধ্যাপক মো. কামরুজ্জামান। সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাকোয়াত হোসেন হেলাল। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কোডেকের এরিয়া অফিসার অজিফা খাতুন এবং মাঠকর্মী মোহাম্মদ আবু বকর। অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন, লবণাক্ততা বৃদ্ধি এবং অনিয়মিত আবহাওয়ার কারণে মানুষের জীবন ও জীবিকা হুমকির মুখে পড়ছে। এসব পরিস্থিতিতে পরিবেশ সংরক্ষণ এবং মানবাধিকার রক্ষার বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বক্তারা উল্লেখ করেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সামাজিক সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশবান্ধব আচরণ গড়ে তোলা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান প্রদান করা সময়ের দাবি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এ ধরনের সচেতনতা তৈরির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করতে পারে।
অনুষ্ঠানে মানবাধিকার বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খাদ্য, বাসস্থান, স্বাস্থ্য ও নিরাপদ জীবনের অধিকার অনেক সময় হুমকির মুখে পড়ে। তাই জলবায়ু ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারকে সমন্বিতভাবে বিবেচনা করা জরুরি। সমাজের প্রতিটি মানুষকে এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে এবং নিজেদের অবস্থান থেকে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে হবে।
আলোচনায় আরও উঠে আসে যে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ, দায়িত্বশীল ও পরিবেশসচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হলে বিদ্যালয় পর্যায়ে নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৃক্ষরোপণ, প্লাস্টিক দূষণ রোধ, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং দুর্যোগ প্রস্তুতি সম্পর্কিত কার্যক্রম জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং মানবাধিকার বিষয়ক বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রাণবন্ত মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। অংশগ্রহণকারীরা এ ধরনের কর্মসূচি নিয়মিত আয়োজনের আহ্বান জানান এবং জলবায়ু সহনশীল ও মানবিক সমাজ গঠনে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক এই উদ্যোগ স্থানীয় শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া সৃষ্টি করেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় এমন কার্যক্রম ভবিষ্যতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।