প্রকাশ: রোববার, ২ আগস্ট, ২০২৬, ১০:১৯ পিএম
(ভিজিট : ১২)
জেলার শেরপুর উপজেলার পাঁচটি গ্রামের প্রধান কাঁচা সড়ক দ্রুত পাকাকরণের দাবিতে মানববন্ধন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। রোববার (২ আগস্ট) দুপুরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে শতাধিক নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন।
উপজেলার শাহবন্দেগী ইউনিয়নের বাগমারা, ঘোলাগাড়ি, রাজবাড়ী, হাতিগাড়া ও খোট্টাপাড়া গ্রামের বাসিন্দারা এ কর্মসূচির আয়োজন করেন। ঘণ্টাব্যাপী এই মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) বগুড়া জেলা ও শেরপুর উপজেলা শাখার নেতৃবৃন্দ।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া গ্রামবাসীরা জানান, ওই পাঁচটি গ্রামে প্রায় চার হাজার পরিবারের বসবাস। দীর্ঘ বছর ধরে রাস্তাটি কাঁচা থাকায় বর্ষা মৌসুমে হাঁটু সমান কাদায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। বছরের অর্ধেক সময় চরম দুর্ভোগে থাকতে হয় শিক্ষার্থী, কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষদের। বিশেষ করে মুমূর্ষু রোগী ও গর্ভবতী নারীদের হাসপাতালে নেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে।
সিপিবি শেরপুর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শ্রীকান্ত মাহাতো বলেন, “শ্রমজীবী ও আদিবাসী অধ্যুষিত এই এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। ২০১২, ২০২১ ও ২০২৫ সালেও প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু শুধু আশ্বাসই মিলেছে, কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এবার আমরা রাজপথে নেমেছি।” রাজবাড়ী গ্রামের কৃষক ফরিদুল ইসলাম ও আবদুল হামিদ বলেন, “রাস্তা খারাপ হওয়ায় গ্রামে কোনো যানবাহন ঢুকতে চায় না। ফলে উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারে নিতে আমাদের অতিরিক্ত খরচ গুনতে হয়।
তাদের প্রশ্ন, সরকারের উন্নয়নের সুফল এই ৫ গ্রামের মানুষ কবে পাবে?”মানববন্ধনে জেলা সিপিবির সভাপতি আমিনুল ফরিদসহ অন্যান্য স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন। কর্মসূচি শেষে আন্দোলনকারীদের একটি প্রতিনিধি দল ইউএনও মো. সাইদুজ্জামান হিমুর কাছে লিখিত স্মারকলিপি পেশ করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, “গ্রামবাসীদের দাবির বিষয়টি আমি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সড়কের সবচেয়ে খারাপ ও কাদাযুক্ত অংশে চলাচলের উপযোগী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি বগুড়া উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সড়কটি পাকাকরণের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”