ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হওয়ায় কুড়িগ্রামে নির্মাণাধীন নতুন বাইপাস সড়কের কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ করা সম্ভব হয়নি। সড়কটির নির্মাণকাজ শেষ করতে আরও দুই বছর সময় বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, বাইপাস সড়কটি নির্মিত হলে কুড়িগ্রাম শহরের যানবাহনের চাপ কমবে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হবে।
সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কুড়িগ্রাম সড়ক বিভাগের আওতায় প্রায় ৮৮ কোটি টাকা ব্যয়ে দাশেরহাট থেকে তারামন বিবির মোড় পর্যন্ত ৪ দশমিক ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ নতুন বাইপাস সড়ক নির্মাণের কার্যাদেশ দেওয়া হয় ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে। চলতি বছরের জুন মাসে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন না হওয়ায় তা সম্ভব হয়নি।
সূত্র জানায়, ৪ দশমিক ৮ কিলোমিটার সড়কের পুরো অংশের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ প্রয়োজন। এর মধ্যে প্রায় ২ কিলোমিটার অংশের অধিগ্রহণ সম্পন্ন হলেও অধিকাংশ জমির মালিক এখনো ক্ষতিপূরণের অর্থ পাননি। অবশিষ্ট ২ দশমিক ৮ কিলোমিটার অংশের ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। বর্তমানে অধিগ্রহণ সম্পন্ন হওয়া অংশে মাটির কাজ চলছে। পাশাপাশি পাঁচটি কালভার্ট নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের নির্ধারিত অংশে এখনো বৈদ্যুতিক খুঁটি, দোকানপাট ও বসতবাড়ি রয়েছে। এসব অপসারণ না হওয়ায় নির্মাণকাজে ধীরগতি দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সামিউল আলম বলেন, প্রথম দিকে কাজের গতি চোখে পড়ার মতো ছিল। কিন্তু ভূমি অধিগ্রহণের জটিলতায় এখন কাজ ধীরগতিতে চলছে। এতে যানবাহন চলাচল ও পথচারীদের দুর্ভোগ বেড়েছে। তিনি দ্রুত সমস্যার সমাধানের দাবি জানান।
স্থানীয় বাসিন্দা শাহা আলম বলেন, বৈদ্যুতিক খুঁটি অপসারণের দায়িত্ব বিদ্যুৎ বিভাগের। রাস্তার জন্য মাপজোকের সময় থেকেই খুঁটিগুলো সড়কের সীমার মধ্যে রয়েছে। কিন্তু এখনো সেগুলো অপসারণের কোনো কার্যক্রম চোখে পড়েনি। দ্রুত সমস্যার সমাধানের দাবি জানান তিনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রকল্পের এখন পর্যন্ত গড় অগ্রগতি প্রায় ১০ শতাংশ। বাকি কাজের অগ্রগতি ভূমি অধিগ্রহণের ওপর নির্ভর করছে। ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হলে নির্মাণকাজও দ্রুত এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
আরেকটি সূত্র জানায়,বাইপাস সড়কটি চালু হলে নাগেশ্বরী, ফুলবাড়ী, ভুরুঙ্গামারী ও সোনাহাট স্থলবন্দরমুখী যানবাহন শহরে প্রবেশ না করেই চলাচল করতে পারবে। এতে কুড়িগ্রাম শহরের যানবাহনের চাপ কমবে।
এ বিষয়ে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের প্রজেক্ট ম্যানেজার ইঞ্জিনিয়ার মো. রায়হান কবির বলেন,জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া সত্ত্বেও আমরা ২০ থেকে ২৫ ভাগ কাজ শেষ করতে পেরেছি। জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে আমাদের কাজের গতি আরো বাড়বে।
কুড়িগ্রাম সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মীর নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন,আমরা অনেক আগেই ভূমি অধিগ্রহণের টাকা জেলা প্রশাসনের কাছে বুঝিয়ে দেওয়ার পরও জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায়নি। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বাইপাস সড়ক নির্মাণকাজের ওপর। তবে আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে বাইপাস সড়কের নির্মাণকাজ শেষ করা যাবে।