আসন্ন শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা উপলক্ষে চট্টগ্রামে চলছে জোর প্রস্তুতি। আগামী ১৬ জুলাই বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় নন্দনকানন রথের পুকুর পাড় থেকে শুরু হবে কেন্দ্রীয় রথযাত্রার পরিক্রমা, যেখানে যুক্ত হবে নগরের ১২টি আঞ্চলিক কমিটির রথ এবং বিভিন্ন মঠ-মন্দিরের রথ।
শনিবার (১১ জুলাই) সকাল ১১টায় নন্দনকানন তুলসীধামে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঋষিধাম অধিপতি ও তুলসীধামের মোহন্ত শ্রীমৎ দেবদীপানন্দ পুরী মহারাজ। কেন্দ্রীয় রথযাত্রা উদযাপন কমিটির সভাপতি হিরন্ময় ধর তার লিখিত বক্তব্যে জানান, তুলসীধামের এই রথযাত্রার ইতিহাস প্রায় তিনশ বছরের পুরনো। আঠারো শতকের পর থেকে চট্টগ্রামে শুরু হওয়া এই উৎসব কালক্রমে রূপ নিয়েছে বিশাল কেন্দ্রীয় আয়োজনে।
এবারের পরিক্রমায় অংশ নেবে শহরের বিভিন্ন এলাকার একাধিক ঐতিহ্যবাহী রথ শ্রীকৃষ্ণায়ন, মনোহরখালী, মাইজপাড়া, শাহাজীপাড়া, ফিরিঙ্গীবাজার টেকপাড়া, এনায়েতবাজার, টাইগারপাস, গঙ্গাবাড়ী, পূর্ব মাদারবাড়ী ও সদরঘাট জেলে পাড়ার জগন্নাথদেবের রথসহ আরও অনেক রথ। আয়োজকরা জানান, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণেই সম্প্রীতির এই উৎসব যুগ যুগ ধরে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে চট্টগ্রামে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সঙ্গে থাকবেন রাষ্ট্রীয় অতিথি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
উল্লেখ্য, জগন্নাথদেবের স্নানযাত্রার পর থেকেই তুলসীধামে চলছে ১৫ দিনব্যাপী বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ক্যাম্প, যা পরিচালনা করছে অদ্বৈত-অচ্যুত চিকিৎসক ফোরাম। এছাড়া ১৬ জুলাই তুলসীধাম মদনমোহন মন্দিরে অনুষ্ঠিত হবে বিশেষ পূজার্চনা।
আয়োজকদের ভাষ্যে উঠে এসেছে এক আক্ষেপের কথাও ,এক সময় নন্দনকানন রথের পুকুর পাড়ে জড়ো হতো নগরের সব রথ, বসত জমজমাট মেলা, যা থেকেই এলাকাটির নামকরণ। কিন্তু কালের বিবর্তনে পুকুর ভরাট হয়ে সেখানে এখন গড়ে উঠেছে ভবন আর দোকানপাট। ফলে রথ পরিক্রমা শেষে আর সেই ঐতিহ্যবাহী স্থানে রথ রাখা সম্ভব হয় না, বরং প্রতিবার মন্দির থেকে নতুন করে রথ আনতে হয়। এই ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন আয়োজকরা।
রথযাত্রার নির্ধারিত পথ শুরু হবে রথের পুকুর পাড় থেকে, এরপর রাইফেল ক্লাব, আমতল, নিউ মার্কেট মোড়, জিপিও, কোতোয়ালী মোড় হয়ে কোর্ট বিল্ডিং, লালদীঘি, বক্সিরহাট, আন্দরকিল্লা, জেএমসেন হল, চেরাগি পাহাড়, জামালখান, সার্সন রোড, কাজীর দেউড়ি, নেভাল এভিনিউ, লাভ লেইন ও বৌদ্ধ মন্দির অতিক্রম করে শেষ হবে তুলসীধামের সামনে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিধান ধর, অর্থ সম্পাদক সুজিত হাজারী, রথ পরিক্রমার সমন্বয়কারী শ্যামদাশ ধরসহ কমিটির নেতৃবৃন্দ এবং তুলসীধাম পরিচালনা পরিষদের কর্মকর্তা ও ভক্তবৃন্দ।