প্রকাশ: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ৯:০৭ পিএম
(ভিজিট : ১১)
একদিকে জলবায়ু সংকটের বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ, অন্যদিকে শাহসূফী মাইজভাণ্ডারীর আধ্যাত্মিক দর্শন ,দুটো সম্পূর্ণ ভিন্ন জগতকে এক ছাদের নিচে আনল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ব পরিবেশ দিবস-২০২৬ এবং হযরত শাহসূফী সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভাণ্ডারীর (ক.) ২০০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এই সিম্পোজিয়াম শিক্ষামহলে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
চবির ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগ এবং দারুল ইরফান রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (ডিরি) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত 'গ্র্যাজুয়েট সিম্পোজিয়াম অন ওয়ার্ল্ড এনভায়রনমেন্ট ডে-২০২৬' অনুষ্ঠিত হয় বিভাগের কনফারেন্স কক্ষে। দিনব্যাপী এই আয়োজনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. নুরুল ইসলাম।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চবির রুটিন দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য ও উপ-উপাচার্য (অ্যাকাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল-আমীন। তিনি বলেন, বিজ্ঞান আর আধ্যাত্মিকতাকে একসঙ্গে পরিবেশ রক্ষার কাজে লাগানোর এই ভাবনা সত্যিই অভিনব। নব্বইয়ের দশক থেকে জলবায়ু গবেষণায় যুক্ত এই শিক্ষাবিদ আক্ষেপ করে বলেন, দশকের পর দশক গবেষণা করেও মানুষকে সহজে সচেতন করা যাচ্ছে না নিজের গায়ে বিপদ না এলে কেউ নড়েচড়ে বসে না।
বিশেষ অতিথি উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মো. সফিকুল ইসলাম সতর্ক করে দেন, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ বৈশ্বিক উষ্ণতার সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর একটি। বন উজাড় ও কার্বন নিঃসরণের দায় না থাকলেও এর মাশুল গুনতে হচ্ছে আমাদের নিম্নভূমিগুলোকে। তাই ব্যক্তিগত উদ্যোগে গাছ লাগানোর ওপর জোর দেন তিনি।
সিম্পোজিয়ামের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ ছিল শিক্ষার্থীদের পোস্টার প্রতিযোগিতা। দুটি থিমে বিভক্ত এই প্রতিযোগিতায় জলবায়ু অভিযোজন থেকে শুরু করে 'ইকো-সুফিবাদ' পর্যন্ত নানা অভিনব বিষয় উঠে আসে গবেষকদের পোস্টারে। প্রতিটি থিম থেকে সেরা তিনটি পোস্টার পুরস্কৃত করা হয়। সিম্পোজিয়ামের আলোচনা ও গবেষণাপত্র নিয়ে একটি প্রসিডিংসও প্রকাশিত হবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।
অনুষ্ঠানে কনভেনারের দায়িত্ব পালন করেন অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল সরোয়ার। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন এই ব্যতিক্রমী আয়োজনে।