প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ৮:১৮ পিএম
(ভিজিট : ৭)
জলাবদ্ধতার যন্ত্রণা থেকে নগরবাসীকে মুক্তি দিতে এবার সরাসরি মাঠে নামলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। বুধবার সকালে দক্ষিণ পাহাড়তলীর ১ নম্বর ওয়ার্ডে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ছড়া পরিদর্শন করে পুনঃখননের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন তিনি।
ঢুলুনিয়া ঢালা ছড়া, খাগড়িয়া ছড়া ও খোশাল শাহ ছড়া এই তিনটি জলপথের দীর্ঘদিনের জমে থাকা অবহেলা দূর করতে শুরু হয়েছে খনন কাজ। স্থানীয় বাসিন্দা, জনপ্রতিনিধি ও কর্পোরেশনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মেয়র পরিষ্কার ভাষায় জানিয়ে দেন ,খাল দখল করে থাকলে আর পার পাওয়া যাবে না।
মেয়র বলেন, খাল ও ছড়াগুলো নগরের সম্মিলিত সম্পদ, কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। অবৈধ দখল আর যত্রতত্র নির্মাণের কারণে এই জলপথগুলো কার্যত মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছে, যার খেসারত দিচ্ছেন সাধারণ মানুষ। তিনি দখলদারদের স্বেচ্ছায় সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করেন, সাড়া না দিলে আইনি পথেই সমাধান হবে।
খালের ওপর বসানো স্ল্যাব ও অবকাঠামোও যে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে, সেটিও তুলে ধরেন মেয়র। ওয়ার্ডওয়ারি জলাবদ্ধতার কারণ খুঁজে বের করে পরিকল্পিতভাবে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
শুধু খনন নয়, দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের কথাও জানালেন মেয়র। নগরীর ৪০টি খালের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ উন্নয়ন পরিকল্পনা (ডিপিপি) তৈরির কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। পরিকল্পনায় রয়েছে খালগুলো আরও গভীর করা, রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং পাশে আধুনিক ওয়াকওয়ে তৈরি করা।
হালদা নদীর কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করে মেয়র বলেন, হালদাকে বাঁচাতে হলে এর সঙ্গে যুক্ত ছোট-বড় সব জলপথের প্রবাহ সচল রাখা জরুরি। ধাপে ধাপে এই জলপথগুলো ফিরিয়ে আনার মধ্য দিয়েই চট্টগ্রামকে জলাবদ্ধতামুক্ত করার স্বপ্ন পূরণ সম্ভব।
খনন ও সংস্কার কাজের মান ঠিক আছে কিনা সেটি দেখভালে এলাকার মানুষকেও সক্রিয় থাকার আহ্বান জানান ডা. শাহাদাত। পরিষ্কার, পরিবেশবান্ধব ও বাসযোগ্য চট্টগ্রাম গড়তে নাগরিকদের অংশগ্রহণকে অপরিহার্য মনে করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধি।