প্রকাশ: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ৮:৪৮ পিএম (ভিজিট : ১৭)
জমি বিক্রি করতে চেয়েছিলেন বৃদ্ধ বাবা। সেটা মেনে নিতে পারেননি ছেলে। তাই বাবাকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা। আর সেই পরিকল্পনায় ব্যবহার করা হলো এক নারীকে, প্রেমের ফাঁদ পেতে বৃদ্ধকে টেনে আনা হলো মৃত্যুর দিকে।
দুই বছর পর সেই রহস্যের জট খুলল। ষাট বছর বয়সী মীর মজিবুর রহমান খান হত্যার দায়ে তার নিজের ছেলে বেলাল হোসেন (৩৫) এবং বোনের স্বামী আব্দুল জলিলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
পেশায় বাবুর্চি মজিবুর রহমান থাকতেন ফটিকছড়িতে। বাঁশখালীতে তার জমি ছিল আর সেই জমি বিক্রির পরিকল্পনা করলে ছেলে বেলাল তীব্র আপত্তি জানায়। সম্পত্তি হাতছাড়া হওয়ার ভয়ে বেলাল বাবাকে সরিয়ে দেওয়ার ছক কষে।
পরিকল্পনা মতো বেলাল এক পরিচিত নারীকে দিয়ে বাবার সঙ্গে ফোনে ঘনিষ্ঠতা গড়িয়ে তোলে। ধীরে ধীরে বৃদ্ধ প্রেমের জালে জড়িয়ে পড়েন।
২০২৪ সালের জুনে মজিবুর চট্টগ্রামে মেয়ে সালমা খানমের বাসায় বেড়াতে আসেন। ৭ জুন ওই নারীর আহ্বানে বাকলিয়ার একটি বাসায় যান তিনি। সেখানে আগে থেকেই অপেক্ষায় ছিলেন আব্দুল জলিল। শরবতের সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয় ঘুমের ওষুধ। অচেতন হয়ে পড়েন মজিবুর।
এরপর বেলাল ও জলিল তাকে নিয়ে নগরের এক এলাকা থেকে আরেক এলাকায় ঘুরতে থাকে। সন্ধ্যার পর হালিশহরের সিডিএ আউটার রিং রোড এলাকায় নিয়ে গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। লাশ ফেলে রাখা হয় পাশের ঝোপে।
মেয়ে সালমা বাবাকে না পেয়ে প্রথমে নিখোঁজ ডায়েরি, পরে অপহরণ মামলা করেন। আদালতের নির্দেশে তদন্তভার নেয় পিবিআই।
এদিকে হত্যার দুই দিন পর হালিশহর থানা পুলিশ একটি অজ্ঞাতনামা লাশ উদ্ধার করেছিল। পরিচয় না মেলায় দাফন করা হয়েছিল সেই লাশ, মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদনও দেওয়া হয়ে গিয়েছিল। সাম্প্রতিক তদন্তে পিবিআই নিশ্চিত করেছে সেই অজ্ঞাতনামা লাশটি আর কেউ নয়, মজিবুর রহমান নিজেই।
শনিবার (১৩ জুন) কর্ণফুলী উপজেলার মইজ্জারটেক থেকে বেলালকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের সূত্র ধরে পরদিন জোরারগঞ্জের ঘেড়ামারা থেকে আটক হন জলিল। ১৪ জুন আদালতে ১৬৪ ধারায় হত্যায় অংশগ্রহণের স্বীকারোক্তি দিয়েছেন বেলাল।
পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রো ইউনিট প্রধান পুলিশ সুপার এস এম রফিকুল ইসলাম জানান, প্রেমের ফাঁদে ব্যবহৃত সেই নারীর পরিচয় শনাক্ত হয়েছে, তবে তাকে এখনও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তদন্ত চলছে।