প্রকাশ: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ৮:৪৩ পিএম (ভিজিট : ৬)
একটি ছোট্ট কাগজ, পুরোনো ঋণের স্ট্যাম্প। সেটা চুরি করতে গিয়ে যা ঘটল, তা ভাবলে শিউরে ওঠে গা। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার চেনামতি বড়ুয়া পাড়ায় এক রাতের ব্যবধানে প্রাণ হারালেন মা এনি বড়ুয়া (৪০) এবং তার কিশোরী মেয়ে প্রিয়ন্তী বড়ুয়া (১৬)। আর পাঁচ বছরের এক শিশু আহত হয়ে বেঁচে রইল, হয়তো বুকে নিয়ে এই ভয়াল রাতের স্মৃতি সারাজীবন।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার সন্দেহভাজন রিমন বড়ুয়া ওরফে তেজু বড়ুয়া জানিয়েছে, একটি পুরোনো ঋণ-সংক্রান্ত দলিল চুরির উদ্দেশ্যে সে রাতে বাড়ির পেছনে লুকিয়ে ছিল। পরিকল্পনা ছিল নীরবে কাজ সেরে পালিয়ে যাওয়ার। কিন্তু সেই পরিকল্পনা ভেঙে পড়ে এক মুহূর্তেই।
এনি বড়ুয়া তাকে দেখে ফেলেন। চিৎকার করে ওঠেন। আর সেই চিৎকারই যেন পুরো রাতটাকে বদলে দিল।
মায়ের চিৎকার শুনে ঘর থেকে ছুটে বের হয়েছিল ষোলো বছরের প্রিয়ন্তী। কিন্তু সেই সাহসী পদক্ষেপই তার শেষ পদক্ষেপ হয়ে গেল। একের পর এক ছুরির আঘাতে মা-মেয়ে দুজনই লুটিয়ে পড়লেন মাটিতে। রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে যে আর্তনাদ উঠেছিল, তা থেমে গেল অচিরেই।
ঘটনাস্থল ছেড়ে পালানোর সময় রিমন সঙ্গে নিয়ে যায় মোবাইল ফোন। কিন্তু তদন্তকারীরা সেই ফোন উদ্ধার করেছেন পটিয়া এলাকার একটি ডোবা থেকে। হত্যায় ব্যবহৃত ছুরিটিও খুঁজে পাওয়া গেছে বাড়ির পেছনের খাল থেকে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের কর্মকর্তা মাসুদ আলম জানান, উদ্ধার হওয়া এই আলামতগুলো তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ঘটনায় আর কেউ জড়িত ছিল কিনা কিংবা আগে থেকে কোনো পরিকল্পনা ছিল কিনা সব কিছু খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এলাকাজুড়ে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি।
একটা আর্থিক বিরোধ কীভাবে দুটো মানুষের প্রাণ কেড়ে নিতে পারে ,এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন গ্রামের মানুষ। অনেকে বলছেন, এটা শুধু চুরির ঘটনা নয়, এটা ভেতরে জমে থাকা এক ভয়াবহ সহিংসতার বিস্ফোরণ।
চেনামতি বড়ুয়া পাড়া এখন শোকে নিমজ্জিত। প্রতিটি ঘরে ভারী হয়ে আছে বাতাস। মানুষ কথা বলছে কম, ভাবছে বেশি আর ভয় জমছে মনের কোণে।