প্রকাশ: সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬, ৮:০২ পিএম (ভিজিট : )
দ্বীপ জেলা ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরার মানুষের বহুদিনের স্বপ্ন এবার বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে। মেঘনা নদীর তলদেশ দিয়ে সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে ভোলার মূল ভূখণ্ড থেকে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ পৌঁছাবে এই নিভৃত দ্বীপে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৯০ হাজার মানুষের জীবনমানে আমূল পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সম্প্রতি ‘মনপুরা দ্বীপে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ’ প্রকল্পের আওতায় আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করেছে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপডিকো)।
ভোলা-৪ (চরফ্যাশন-মনপুরা) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়নের বিশেষ উদ্যোগ ও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়।
এ বিষয়ে সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন বলেন, “নির্বাচনের সময় মনপুরায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার যে অঙ্গীকার করেছিলাম, এটি তারই বাস্তব প্রতিফলন। মেঘনার তলদেশ দিয়ে ক্যাবল স্থাপন একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে মনপুরার অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।”
ওজোপডিকো সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় ৩৩ কেভি সাবমেরিন ক্যাবলের নকশা, সরবরাহ, স্থাপন ও কমিশনিংয়ের কাজ সম্পন্ন করা হবে।
নদীর তলদেশ দিয়ে প্রতিটি ৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ৪টি রানসহ মোট ২৮ কিলোমিটার ক্যাবল স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি নির্মাণ করা হবে অত্যাধুনিক ল্যান্ডিং স্টেশন। এর ফলে ডিজেলচালিত জেনারেটরের ওপর নির্ভরতা কমে গিয়ে দ্বীপবাসী স্থিতিশীল বিদ্যুৎ সুবিধা পাবে।
আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো আগামী ২৫ জুন ২০২৬ পর্যন্ত দরপত্র জমা দিতে পারবে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে মনপুরার হিমায়িত মৎস্য শিল্প, পর্যটন এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা খাতে নতুন গতি সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে চরাঞ্চলের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায়ও বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।
মনপুরাবাসীর মধ্যে আনন্দের জোয়ার বইছে। তাদের ভাষায়, সঠিক নেতৃত্ব ও কার্যকর উদ্যোগের কারণেই দীর্ঘদিনের অন্ধকার পেরিয়ে মনপুরা এখন আলোর পথে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে।