প্রকাশ: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৬:২২ পিএম
(ভিজিট : ৭২)
জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টে অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক আয়োজন ‘বৈশাখী মেলা’। কয়েকজন সংস্কৃতিমনা বাংলাদেশি নারীর উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য যেন এক টুকরো বাংলাদেশে পরিণত হয়। দিনব্যাপী আয়োজনে ছিল দেশীয় সংস্কৃতির উজ্জ্বল প্রকাশ, বাহারি খাবারের স্টল, দেশীয় পোশাকের প্রদর্শনী ও বিক্রয় এবং গান-নৃত্যে সাজানো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
অনুষ্ঠানের অন্যতম উদ্যোক্তা ছিলেন দিলশাদ জাহান খান। সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন পারভিন জাহাঙ্গীর, ডায়মণ্ড হীরা, চৈতি বানোয়ারি ও ইয়াসমিন আহমেদ। আয়োজকদের মতে, এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য ছিল জার্মানিতে নতুন নারী উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করা এবং নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলা সংস্কৃতি তুলে ধরা।
মেলার অন্যতম আকর্ষণ ছিল স্টলগুলোর সৃজনশীল নামকরণ। “সাজের প্রহর” স্টলে দিলশাদ জাহান খান দেশীয় শাড়ি, থ্রি-পিস, গহনা ও ফ্যাশন সামগ্রী উপস্থাপন করেন। “রিকস্টিউম জার্মানি বাই টুম্পা”-তে ছিল নারীদের সাজসজ্জার উপকরণ। “ফৌজিয়া’স ক্লোসেট”-এ ফৌজিয়া শেখ ট্রেন্ডি ও ঐতিহ্যবাহী পোশাক প্রদর্শন করেন। “ব্লিসফুল বিউটি বাই নাদিয়া”-তে তরুণীদের জন্য ছিল আকর্ষণীয় পোশাক ও অলংকারের সংগ্রহ।
খাবারের স্টলগুলোও দর্শনার্থীদের নজর কাড়ে। “খাই দাই (বিরিয়ানি)” স্টলে পারভিন জাহাঙ্গীরের বিরিয়ানি দর্শকদের মুগ্ধ করে। ডায়মণ্ড হীরার “টক ঝাল উৎসব ঘর”-এ ছিল মশলাদার দেশীয় খাবার। “মিষ্টি ছোঁয়া বাই মিতা”-তে ইয়াসমিন আহমেদ পরিবেশন করেন দেশীয় মিষ্টান্ন ও পিঠা। এছাড়া শম্পা আহমেদের “মুসাওয়ির’স ফান”, শিরীন মজুমদারের “মজুমদার চায়ের স্টল” এবং ফৌজিয়া হকের “খিচুরি কর্নার” দর্শকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল।
সাংস্কৃতিক আয়োজনে সংগীত পরিবেশন করেন রিয়েল আনোয়ার, নিম্মি কাদের, মুক্তা খান, বাবুল খান ও বাবুল তালুকদার। নৃত্যে অংশ নেন আয়েশা জামান আরশিকা। পুরো অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন নুরল আকন্দ খোকন।
অংশগ্রহণকারীরা জানান, এ ধরনের আয়োজন প্রবাস জীবনের ব্যস্ততার মাঝে স্বস্তি এনে দেয় এবং নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলা সংস্কৃতি তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আয়োজকদের মতে, এ উদ্যোগ জার্মানিতে নারী উদ্যোক্তাদের এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে।