প্রকাশ: রোববার, ৫ জুলাই, ২০২৬, ৮:৪৫ পিএম
(ভিজিট : ১৯)
দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মরত অভিবাসী শ্রমিকদের শ্রম অধিকার, ন্যায্য মজুরি এবং কর্মস্থল পরিবর্তনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার দাবিতে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্ষোভ ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিভিন্ন দেশের জাতীয় পতাকা, ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে হাজারো অভিবাসী শ্রমিক এই কর্মসূচিতে অংশ নেন। আন্দোলনে অংশ নেওয়া শ্রমিকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তারা বিভিন্ন ধরনের বৈষম্য, অন্যায্য কর্মচুক্তি এবং শ্রম অধিকারবঞ্চিত অবস্থার মধ্যে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, বিশেষ করে HD Hyundai Heavy Industries–সহ কয়েকটি বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত বিদেশি শ্রমিকরা বেতন বৈষম্য, চুক্তি লঙ্ঘন এবং কর্মপরিবেশ–সংক্রান্ত নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। এসব অভিযোগের প্রতিবাদ এবং শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতেই এই আন্দোলনের আয়োজন করা হয়।
আন্দোলনে অংশ নেওয়া শ্রমিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, E-7-3 ভিসায় আসা অনেক দক্ষ কর্মী নিজ দেশে ঋণ নিয়ে কিংবা পরিবারের সম্পদ বিক্রি করে উন্নত জীবনের আশায় দক্ষিণ কোরিয়ায় আসেন। কিন্তু বাস্তবে অনেকেই নিয়োগের সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বেতন ও সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন না। কিছু শ্রমিকের অভিযোগ, বিভিন্ন অজুহাতে তাদের মূল বেতন থেকেও অর্থ কেটে নেওয়া হচ্ছে।
তাদের দাবি, শুধু E-7-3 নয়; E-7-4, E-8, E-9 এবং E-10 ভিসার আওতায় কর্মরত অনেক অভিবাসী শ্রমিকও একই ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। বিশেষ করে কর্মস্থল পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিধিনিষেধের কারণে অনেকেই নির্যাতন, কম বেতন কিংবা অনিরাপদ কর্মপরিবেশে কাজ করেও চাকরি পরিবর্তন করতে পারছেন না। একই সঙ্গে ভিসা নবায়নের ক্ষেত্রে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতাও শ্রমিকদের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ বলে তারা উল্লেখ করেন।
সমাবেশে অংশগ্রহণকারী শ্রমিক এবং কোরিয়ার ধাতব শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা চার দফা দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা, বৈষম্যমূলক বেতন কর্তন বন্ধ করা, কর্মস্থল পরিবর্তনের স্বাধীনতা প্রদান, শ্রমিকস্বার্থবিরোধী চুক্তি বাতিল এবং ভিসা নবায়ন প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও সহজ করা।
বিক্ষোভে বক্তারা বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ার শিল্প ও অর্থনীতিতে অভিবাসী শ্রমিকদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। তাই তাদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ বন্ধ করে আন্তর্জাতিক শ্রম মানদণ্ড অনুযায়ী ন্যায্য কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। তারা সরকারের প্রতি শ্রম আইন বাস্তবায়ন এবং অভিবাসী শ্রমিকদের মৌলিক অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, দক্ষিণ কোরিয়ায় অভিবাসী শ্রমিকদের শ্রম অধিকার, কর্মস্থল পরিবর্তনের সুযোগ এবং কর্মপরিবেশ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন, মানবাধিকারকর্মী ও নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে আলোচনা ও দাবি উঠে আসছে। সাম্প্রতিক এই আন্দোলনের মাধ্যমে সেই দাবিগুলো আবারও নতুন করে সামনে এসেছে।