কুড়িগ্রাম জেলার শহরতলীর সন্তান কণ্ঠশিল্পী বিপাশ খান তার মধুময় কণ্ঠে গাওয়া গান দিয়ে ইতোমধ্যেই জয় করে নিয়েছেন সারা দেশের শ্রোতাদের হৃদয়। লোকজ আবেগ, প্রেম-বিরহ আর আধ্যাত্মিকতার মিশেলে তার কণ্ঠ আজ সংগীতপ্রেমীদের মুখে মুখে।
বিশেষ করে “আমি যেদিন যাইব রে মুর্শিদ” শিরোনামের গানটি, যার লিরিক লিখেছেন লিমন মাহামুদ এবং কণ্ঠ দিয়েছেন বিপাশ খান, প্রকাশের পর থেকেই ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। গানটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে পড়ে এবং বর্তমানে ইউটিউব ট্রেন্ডিংয়েও জায়গা করে নিয়েছে। গানটির আবেগঘন সুর ও কণ্ঠশৈলী শ্রোতাদের মনে গভীর ছাপ ফেলেছে।
এছাড়াও তার কণ্ঠে প্রকাশিত “স্বার্থ ফুরাইয়া গেলে”, “পিরিতের কাটা”, “দাগা”সহ বিভিন্ন ইসলামি ও আধুনিক গান শ্রোতাদের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। প্রতিটি গানেই রয়েছে তার কণ্ঠের স্বকীয়তা ও হৃদয়ছোঁয়া উপস্থাপনা।
ঈদ উপলক্ষে সম্প্রতি প্রকাশ পেয়েছে তার নতুন গান “স্বার্থ ফুরাইয়া গেলে”। গত মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বিকেলে গানটি ইউটিউবে মুক্তি দেওয়া হয়,যা তমিজ খানের সহযোগিতায় নির্মিত হয়েছে। গানটি প্রকাশের পর থেকেই ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছে।
বিপাশ খান জানান, ছোটবেলা থেকেই গানের প্রতি তার গভীর ভালোবাসা ছিল। তার সংগীতজীবনের শুরু হয় তার দুই বড় ভাই—রেজওয়ান সাগর ও লিমন হোসেনের হাত ধরে। ব্যক্তিগত জীবনে তার সহধর্মিনীর অনুপ্রেরণাও তাকে এগিয়ে যেতে শক্তি জুগিয়েছে। যদিও পেশাগতভাবে তিনি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত, তবুও সংগীতের প্রতি ভালোবাসা থেকেই নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন।
স্থানীয়দের কাছেও তিনি গর্বের প্রতীক। কন্টেন্ট ক্রিয়েটর রহিম বলেন, ছোটবেলা থেকেই দেখেছি বিপাশ ধরলা নদীর পাড়ে বসে গান গাইতো। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজাতো। তখনই বুঝেছিলাম, এই কণ্ঠ একদিন বড় কিছু করবে। আজ তা বাস্তবে পরিণত হয়েছে।
ধরলা নদীর তীরের বাসিন্দা আব্দুল হামিম বলেন, আমরা চরের মানুষ। আমাদের কুড়িগ্রামের ছেলের গান মোবাইলে ডাউনলোড করে সবাই মিলে শুনি। আমরা দোয়া করি, বিপাশ একদিন আরও বড় শিল্পী হবে।
শুধু কুড়িগ্রাম নয়, সারা দেশের সংগীতপ্রেমীদের কাছেও বিপাশ খান এখন এক পরিচিত নাম। তার নিরলস পরিশ্রম, একাগ্রতা ও কণ্ঠের জাদু তাকে ভবিষ্যতে আরও উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে মনে করছেন জেলার সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মানুষজন।
কুড়িগ্রামের এই প্রতিভাবান শিল্পী তার সুরের মায়াজালে বেঁধে রেখেছেন লাখো শ্রোতার হৃদয়—আর এভাবেই এগিয়ে চলেছেন সফলতার পথে।