প্রকাশ: শনিবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০২৪, ৬:৪৬ পিএম (ভিজিট : ১৮৩)
বাংলাদেশের কুটনৈতিক দুনিয়ায় এক আলোচিত নাম, ওয়ালিদ ইসলাম। গোপালগঞ্জের সন্তান, যার পরিচয় আজীবন বেমালুম গোপন রাখা হয়েছিল, কিভাবে তিনি বিসিএস ফরেন বিভাগে চাকরি পেয়েছেন, তা আজও সবার কাছে এক রহস্য হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। গোপালগঞ্জের এক ট্রান্সজেন্ডার কূটনীতিক হিসেবে তাঁর উত্থান এবং অতীত জীবন অন্ধকারে আবৃত ছিল। ২০১৭ সালে নিজেকে শেখ মুজিবের সৈনিক হিসেবে দাবি করেন, বিশেষ কোটায় এই নিয়োগ পেয়ে একের পর এক মঞ্চে উঠে গেছেন তিনি। কিন্তু সম্প্রতি, ফ্রান্সে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব হিসেবে তাঁর বদলি নিয়ে যে তীব্র বিতর্ক উঠেছে, তা আশঙ্কার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শেখ মুজিবের জন্মদিনে গাওয়া তাঁর গানে মাতোয়ারা হওয়ার মতো ঘটনা সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। কিন্তু এটি যে এক আড়ালিত সংকটের পটভূমিতে ঘটছে, তা উপলব্ধি করছেন ফ্রান্সের বাংলাদেশ কমিউনিটির সদস্যরা। বিশেষ করে, ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থান এবং বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের পর, যেখানে সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে, সেখানে এমন একজন ব্যক্তিকে বিদেশী মিশনে উচ্চ পদে বসানো একটি পরিস্কার রাজনৈতিক সংকেত হতে পারে।
বাংলাদেশের অনেকেই মনে করেন, বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক সাফল্য এবং ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য এমন পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। ওয়ালিদ ইসলামকে ফ্রান্সের মতো একটি শান্তিপ্রিয় দেশে পাঠানোর পিছনে রয়েছে গভীর কৌশল, যা কিনা সেখানে বিশেষ কোনো রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ওয়ালিদ ইসলামের এই বদলি শুধুমাত্র একটি কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং এটি সরকারী রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হতে পারে। ২০২৪ সালের নির্বাচনের আগেই যদি সরকার বিদেশে এমন একজন ব্যক্তিকে পদোন্নতি দেয়, যিনি শেখ হাসিনার বিশেষ অনুগত, তবে এটি রাজনৈতিকভাবে সরকারের পক্ষ থেকে এক ধরনের শক্তির প্রদর্শন হতে পারে। ওয়ালিদ ইসলামের মত একজন ব্যক্তিকে ফ্রান্সে পাঠিয়ে, যেখানে বাংলাদেশের সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক আন্দোলন আরো তীব্র হয়ে উঠছে, সরকার হয়তো কিছুক্ষণের জন্য চাপ কমানোর চেষ্টা করছে। বিশেষ করে, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের মতে, এটি সরকারের বিরুদ্ধে গঠিত এক সুপরিকল্পিত চক্রান্তের অংশ।
ফ্রান্সে বাংলাদেশ কমিউনিটির মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছে, যদি এই বদলি থামানো না হয়, তবে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা। বিষয়টি আরো স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে যখন দেখা গেছে, ওয়ালিদ ইসলাম সরকারের এক অত্যন্ত কাছের একজন মানুষ হিসেবে পরিচিত, এবং তার বর্তমান পদোন্নতি সরকারের স্বৈরাচারের পক্ষে একধরনের শক্তি সঞ্চার হতে পারে। এখন প্রশ্ন উঠছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কি এই বদলি রোধ করবে? নাকি রাজনৈতিক দলীয় স্বার্থের জন্য আবারও ক্ষমতার অপব্যবহার করতে যাবে? বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা কি ঠিকঠাক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারবেন? একথা নিশ্চিত যে, ফ্রান্সে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ও সমপ্রেমী রাজনৈতিক পরিবেশ সুরক্ষিত রাখতে হলে এই সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান অত্যন্ত জরুরি।
এছাড়া, সরকারের রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা এবং ক্ষমতার কেন্দ্রিক এসব পদক্ষেপ দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। অনেকেই মনে করছেন, এই ধরনের পদক্ষেপ বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ণ করতে পারে, বিশেষত যদি ফ্রান্সের নাগরিক সমাজ এই বদলির নেপথ্যে সরকারের রাজনৈতিক কৌশল খুঁজে পায়। এই পরিস্থিতিতে ফ্রান্সের বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যা সরকারের জন্য একটি গুরুতর সংকেত। তাঁরা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, ওয়ালিদ ইসলামের বদলি রোধ না করা হলে, ফ্রান্সে ব্যাপক প্রতিবাদ হবে।