রবিবার ২৩ আগস্ট ২০২৬ ৮ ভাদ্র ১৪৩৩
 
শিরোনাম:


সুন্দরবনে চোরা শিকারিদের দৌরাত্ম্য, দুই মাসে আটক ৪৬
প্রকাশ: শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৫০ পিএম  (ভিজিট : ৯)
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল ও মৎস্যভান্ডার হিসেবে খ্যাত বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনে বন অপরাধের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছে বন বিভাগ। চলতি বছরের জুন ও জুলাই—এই দুই মাসে সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের খুলনা ও সাতক্ষীরা রেঞ্জে ১০৮টি অভিযানে বিভিন্ন বন অপরাধে ৪৬ জনকে আটক করা হয়েছে। এ সময়ে দায়ের হয়েছে ৮৯টি মামলা। পাশাপাশি ৩০ কেজি হরিণের মাংসসহ প্রায় দেড় হাজার মিটার হরিণ ধরার মালা ফাঁদ জব্দ করা হয়েছে।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জুন ও জুলাই মাসে পরিচালিত এসব অভিযানে অবৈধভাবে সুন্দরবনে প্রবেশ, মাছ ধরা, বিষ দিয়ে মাছ শিকার ও বন্যপ্রাণী শিকারের অভিযোগে এসব আটক ও মামলা করা হয়। দায়ের হওয়া ৮৯টি মামলার মধ্যে পি ও আর মামলা ১৯টি, ইউ ডি ও আর মামলা ৬৯টি এবং সি ও আর মামলা ১টি।

জব্দ হয়েছে বিপুল পরিমাণ মাছ ও সরঞ্জাম

অভিযানকালে বনরক্ষীরা ৮৯টি নৌকা ও ৩টি ট্রলার জব্দ করেন। এছাড়া ৫৩টি মাছ ধরার জাল, ৪৭ বোতল বিষ, ১ হাজার ২০০ কেজি কাঁকড়া, ৬১০ কেজি চিংড়ি ও ১৮৫ কেজি সাদা মাছ জব্দ করা হয়।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, বন্যপ্রাণী শিকারের কাজে ব্যবহৃত প্রায় দেড় হাজার মিটার মালা ফাঁদ উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি সুন্দরবনের হরিণ শিকার করে সংগ্রহ করা ৩০ কেজি হরিণের মাংস জব্দ করেছে বন বিভাগ।

গত বছরের তুলনায় কমেছে বন অপরাধ

২০২৫ সালের একই সময়ে সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের খুলনা ও সাতক্ষীরা রেঞ্জে ১১০টি অভিযান পরিচালনা করে বিভিন্ন বন অপরাধে ৪৭ জনকে আটক করা হয়েছিল। সে সময় মামলা হয়েছিল ৮২টি। এর মধ্যে পি ও আর মামলা ১৯টি এবং ইউ ডি ও আর মামলা ৬৩টি।

গত বছরের একই সময়ে ৯৭টি নৌকা ও ৪টি ট্রলার, ৭১টি মাছ ধরার জাল এবং ৪৪ বোতল বিষ জব্দ করা হয়েছিল। এছাড়া ২ হাজার ২০০ কেজি কাঁকড়া, ৯৯৩ কেজি শুঁটকি, ৭৪০ কেজি চিংড়ি, ২১০ কেজি সাদা মাছ ও ৩২ কেজি হরিণের মাংস উদ্ধার করা হয়। হরিণ শিকারের জন্য ব্যবহৃত এক হাজার মিটার মালা ফাঁদও জব্দ করা হয়েছিল।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন-জুলাইয়ে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় অভিযান ২টি এবং আটক ১ জন কমেছে। তবে মামলা হয়েছে ৭টি বেশি। একই সঙ্গে হরিণের মাংস ও মালা ফাঁদ উদ্ধারের পরিমাণেও পরিবর্তন এসেছে।

নিয়মিত টহলে নিয়ন্ত্রণে বন অপরাধ

সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) এজেডএম হাছানুর রহমান বলেন, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় পশ্চিম সুন্দরবনে গত দুই মাসে বন অপরাধ কমেছে।

তিনি জানান, সুন্দরবনে অবৈধ প্রবেশ, অনুমোদনহীনভাবে মাছ ধরা এবং বন্যপ্রাণী শিকার রোধে বনরক্ষীরা নিয়মিত টহল ও অভিযান পরিচালনা করছেন। নিয়মিত নজরদারি ও আইন প্রয়োগের কারণে বন অপরাধ কমে আসছে।

সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় বন বিভাগের এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার ও অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন পরিবেশ ও বনপ্রেমীরা। তাদের মতে, হরিণ শিকারে ব্যবহৃত মালা ফাঁদ, বিষ দিয়ে মাছ ধরা এবং অবৈধভাবে বনে প্রবেশ বন্ধ করা গেলে সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সম্পদ ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি সম্ভব।








আরও খবর


Loading...
Loading...
প্রকাশক: এম এন এইচ বুলু
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মাহফুজুর রহমান রিমন  |   উপদেষ্টা সম্পাদক : রাজু আলীম  
বিএনএস সংবাদ প্রতিদিন লি. এর পক্ষে প্রকাশক এম এন এইচ বুলু কর্তৃক ৪০ কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ, বুলু ওশেন টাওয়ার, (২১ তলা), বনানী, ঢাকা ১২১৩ থেকে প্রকাশিত ও শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৩৪ ফকিরাপুল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত।
ফোন:০২৯৮২০০১৯-২০ ফ্যাক্স: ০২-৯৮২০০১৬ ই-মেইল: [email protected]