সোমবার ২৪ আগস্ট ২০২৬ ৯ ভাদ্র ১৪৩৩
 
শিরোনাম:


কুড়িগ্রামে ফেসবুকের ফেক সংবাদের রিয়েলিটি চেক করছেন গণমাধ্যমকর্মীরা
প্রকাশ: শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৩০ পিএম  (ভিজিট : ৭৩)
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে কুড়িগ্রামের বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, প্রতিষ্ঠান, প্রাথমিক বিদ্যালয়, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে ছড়িয়ে পড়া অপপ্রচার, গুজব ও ভুল তথ্য শনাক্ত করে রিয়েলিটি চেকের উদ্যোগ নিয়েছেন একদল অভিজ্ঞ গণমাধ্যমকর্মী। জনসাধারণের কাছে সঠিক তথ্য তুলে ধরার পাশাপাশি কোনটি সত্য এবং কোনটি অপপ্রচার, তা সহজে বোঝার সুযোগ করে দেওয়াই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

গণমাধ্যমকর্মীরা জানিয়েছেন, কুড়িগ্রামে পরিচয় গোপন রেখে পরিচালিত বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও প্রোফাইল থেকে নানা সময়ে সরকারি দপ্তর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক, প্রশাসনিক, সামাজিক ও অন্যান্য বিষয়ে তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে। এসব তথ্যের কোনো কোনোটি যাচাই ছাড়াই ছড়িয়ে পড়ছে এবং পরবর্তী সময়ে তা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। এ কারণে জনস্বার্থে এসব তথ্যের সত্যতা যাচাই করে প্রতিবেদন তৈরির কাজ শুরু করেছেন তারা।

উদ্যোক্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে ৯টি ফেসবুক পেজ ও প্রোফাইলে প্রকাশিত বিভিন্ন ভুল ও বানোয়াট তথ্য শনাক্ত করে সেগুলোর সত্যতা যাচাইয়ের কাজ শেষ হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে মোট ১৫টি ফেসবুক পেজ ও প্রোফাইল থেকে প্রকাশিত ১৪টি ভুল তথ্যের রিয়েলিটি চেক করে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। তবে প্রতিটি তথ্য যাচাই, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের কারণে পুরো প্রক্রিয়াটি সময়সাপেক্ষ বলে জানিয়েছেন তারা।

রিয়েলিটি চেক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত গণমাধ্যমকর্মী আশির্বাদ রহমান বলেন, কুড়িগ্রামের মানুষ সাধারণভাবে সহজ সরল। বর্তমানে ডিজিটাল প্রযুক্তির বিস্তারের ফলে জেলার মানুষ মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন খবর দ্রুত জানতে পারছেন। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের মধ্যে কোনটি সঠিক এবং কোনটি ভুল বা বানোয়াট, তা অনেকের পক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে বোঝা কঠিন। সঠিক তথ্য জানার অধিকার থেকেই জনসচেতনতার উদ্দেশ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, রিয়েলিটি চেক একটি সময়সাপেক্ষ কাজ। প্রতিবেদনের প্রায় ৫০ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। বাকি কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর চূড়ান্ত প্রতিবেদনে যাচাই করা তথ্যের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ফেসবুক পেজ ও প্রোফাইলের পরিচয়ও তুলে ধরা হবে।

আশির্বাদ রহমান আরও বলেন, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা প্রয়োজন হলে তারা যেন তথ্য যাচাইয়ের স্বার্থে সর্বোচ্চ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন, সে আহ্বানও জানানো হয়েছে।

তবে প্রাথমিক পর্যায়ে ফেসবুক পেজ ও প্রোফাইলগুলোর নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের ভাষ্য, প্রতিবেদনটির পুরো প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর যাচাই করা তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই নাম প্রকাশ করা হবে।
রিয়েলিটি চেকের আওতায় মূলত পরিচয়হীন ও পরিচয় গোপন রেখে পরিচালিত ফেসবুক পেজ ও প্রোফাইলগুলোকে রাখা হচ্ছে। কুড়িগ্রামে যেসব ব্যক্তি নিজেদের পরিচয় প্রকাশ করে রাজনৈতিক, প্রশাসনিক, বিনোদন, সামাজিক কিংবা অন্যান্য বিষয়ে সংবাদ বা তথ্য প্রকাশ করেন, তাদের এ উদ্যোগের আওতায় রাখা হয়নি।

এ বিষয়ে সিনিয়র গণমাধ্যমকর্মী আমিনুল ইসলাম মুকুল বলেন, দীর্ঘ ৩৫ বছরের সাংবাদিকতা পেশার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি দেখেছেন, ডিজিটাল সময়ে তথ্য প্রকাশের গতি যেমন বেড়েছে, তেমনি সত্য ও অপপ্রচারের পার্থক্য করাও অনেক ক্ষেত্রে কঠিন হয়ে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাচাইহীন বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের ফলে সাধারণ মানুষ সঠিক তথ্য জানার অধিকার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।

তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের সঠিক তথ্য জানার অধিকার নিশ্চিত করার জায়গা থেকেই এ প্রতিবেদন তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার উদ্দেশ্যে নয়; বরং তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে সত্যকে সামনে আনা এবং মানুষকে সচেতন করাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।

সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমকর্মীরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো তথ্য দেখেই সেটিকে সত্য ধরে নেওয়ার আগে তথ্যের উৎস, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য এবং নির্ভরযোগ্য প্রমাণ যাচাই করা জরুরি। তাদের তৈরি রিয়েলিটি চেক প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে কুড়িগ্রামের মানুষকে বিভ্রান্তিকর তথ্য থেকে সচেতন করা এবং সঠিক তথ্যের সঙ্গে পরিচিত করাই তাদের লক্ষ্য।








আরও খবর


Loading...
Loading...
প্রকাশক: এম এন এইচ বুলু
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মাহফুজুর রহমান রিমন  |   উপদেষ্টা সম্পাদক : রাজু আলীম  
বিএনএস সংবাদ প্রতিদিন লি. এর পক্ষে প্রকাশক এম এন এইচ বুলু কর্তৃক ৪০ কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ, বুলু ওশেন টাওয়ার, (২১ তলা), বনানী, ঢাকা ১২১৩ থেকে প্রকাশিত ও শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৩৪ ফকিরাপুল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত।
ফোন:০২৯৮২০০১৯-২০ ফ্যাক্স: ০২-৯৮২০০১৬ ই-মেইল: [email protected]