দীর্ঘদিন ধরে ভাঙাচোরা সড়ক ও সীমিত কর্মসংস্থানের কারণে নানা দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন কুড়িগ্রামবাসী। বিশেষ করে জেলার গ্রামীণ সড়কগুলোর বেহাল অবস্থার কারণে সাধারণ মানুষের চলাচল, কৃষিপণ্য পরিবহন ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়ে আসছিল। একই সঙ্গে কর্মসংস্থানের অভাবে অনেক পরিবারকে আর্থিক সংকটে জীবনযাপন করতে হচ্ছে।
এ পরিস্থিতিতে জনদুর্ভোগ কমানোর পাশাপাশি স্থানীয় নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে কাজ করছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিডি), কুড়িগ্রাম।
এলজিডি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে জেলার বিভিন্ন এলাকায় মোট ১৪৬ কিলোমিটার সড়কের জরুরি মেরামত কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এসব কাজের মাধ্যমে একদিকে যেমন যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হয়েছে, অন্যদিকে লেবার কন্ট্রাক্টিং সোসাইটি (এলসিএস) পদ্ধতিতে ২৮১ জন হতদরিদ্র নারী কাজের সুযোগ পেয়েছেন।
কুড়িগ্রাম জেলা জাতীয়তাবাদী যুবদলের নেতা এটিএম নজিবর রহমান লেলিন বলেন, কুড়িগ্রাম একটি হতদরিদ্র জেলা। এখানে কর্মসংস্থানের সুযোগ তুলনামূলক কম। জনদুর্ভোগ কমাতে সড়ক মেরামত এবং একই সঙ্গে নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি একটি ইতিবাচক উদ্যোগ। সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এলজিডির এ ধরনের কার্যক্রম প্রশংসার দাবিদার।
এলজিডি সূত্র আরও জানায়, ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে নতুন পল্লি সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচির কাজ ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় জেলার প্রতিটি ইউনিয়নে ১০ জন করে নারী কর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। কুড়িগ্রামের ৭২টি ইউনিয়নে মোট ৭২০ জন নারী এ কর্মসূচির মাধ্যমে কাজের সুযোগ পাবেন বলে জানা গেছে।
কুড়িগ্রাম জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিক আমিনুর রহমান বলেন,দীর্ঘদিনের সাংবাদিকতায় কুড়িগ্রামের জনদুর্ভোগ ও কর্মসংস্থানের সংকট খুব কাছ থেকে দেখেছি। বর্তমানে এলজিডি যেভাবে উন্নয়নমূলক কাজের পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে, তা জেলার জন্য ইতিবাচক দিক। তবে এসব কাজ যেন স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে বাস্তবায়ন হয়, সে বিষয়ে গণমাধ্যমও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে।
স্থানীয় বাসিন্দা শাহাদাত হোসেন বলেন, আগে অনেক রাস্তা চলাচলের অযোগ্য ছিল। এখন সড়ক মেরামতের কারণে মানুষের যাতায়াত সহজ হয়েছে। একই সঙ্গে এলাকার অনেক নারী কাজের সুযোগ পেয়েছেন, যা তাদের পরিবারের জন্যও সহায়ক হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের কর্মসূচি অব্যাহত থাকুক, সেটাই প্রত্যাশা।
কুড়িগ্রাম স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী কুড়িগ্রামে জনদুর্ভোগ কমানো এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে পরিকল্পিতভাবে কাজ করা হচ্ছে। চলতি অর্থবছরে সড়ক মেরামতের নির্ধারিত কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আগামী অর্থবছরেও নতুন কর্মসূচির মাধ্যমে সড়কের উন্নয়নের পাশাপাশি আরও নারীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, উন্নয়নমূলক এসব কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়িত হলে একদিকে যেমন জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত হবে, অন্যদিকে কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি পেয়ে কুড়িগ্রামের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।