প্রকাশ: রোববার, ২৮ জুন, ২০২৬, ৭:৩৮ পিএম
(ভিজিট : ৫৮)
দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মরত অভিবাসী শ্রমিকদের কর্মস্থল পরিবর্তনের স্বাধীনতা নিশ্চিতসহ শ্রম অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে জোরালো প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (২৮ জুন) দুপুর ২টায় সিউলে কোরিয়ান কনফেডারেশন অব ট্রেড ইউনিয়নস (KCTU)-এর কেন্দ্রীয় শিক্ষা কেন্দ্রে আয়োজিত এক বিশেষ ‘সাক্ষ্য প্রদান সভা’-তে বিভিন্ন দেশের অভিবাসী শ্রমিকরা দীর্ঘদিনের শোষণ, নির্যাতন ও বৈষম্যের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
সভায় অংশ নেওয়া শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, কর্মক্ষেত্রে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, বকেয়া বেতন, সহিংসতা এবং জোরপূর্বক শ্রমের শিকার হলেও বর্তমান ইপিএস (EPS) ব্যবস্থার কারণে মালিকের অনুমতি (রিলিজ) ছাড়া কর্মস্থল পরিবর্তন করা প্রায় অসম্ভব। ফলে অনেকেই বাধ্য হয়ে নির্যাতন সহ্য করে একই কর্মস্থলে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
একজন বাংলাদেশি শ্রমিক বক্তব্য দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “মালিকের অন্যায়-অত্যাচার মুখ বুজে সহ্য করতে হয়, কারণ আইন আমাদের হাত-পা বেঁধে রেখেছে। রিলিজ না দিলে আমাদের সামনে কোনো পথ থাকে না। এই বন্দিদশা আর কতদিন চলবে?”
সভায় উপস্থিত কোরিয়ার মানবাধিকার সংগঠন ও ট্রেড ইউনিয়নের নেতারা অভিবাসী শ্রমিকদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে বলেন, কর্মস্থল পরিবর্তনের স্বাধীনতার ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আন্তর্জাতিক শ্রম অধিকার ও মানবাধিকারের পরিপন্থী। তারা বিদ্যমান নীতিমালার সংস্কারের আহ্বান জানান।
সভা থেকে উত্থাপিত প্রধান দাবিসমূহ:
মালিকের অনুমতির বাধ্যবাধকতা ছাড়াই স্বাধীনভাবে কর্মস্থল পরিবর্তনের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
কর্মক্ষেত্রে সব ধরনের শারীরিক, মানসিক ও বর্ণবাদী নির্যাতন বন্ধ করতে হবে।
বকেয়া বেতন দ্রুত পরিশোধ এবং কোরিয়ান শ্রমিকদের মতো সমান শ্রম অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। সকল অনিবন্ধিত অভিবাসী শ্রমিকের নিবন্ধনের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। সমাবেশে উপস্থিত প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতারা বলেন,আমাদের শ্রমে কোরিয়ার অর্থনীতি এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা দয়া চাই না, আমরা ন্যায্য অধিকার চাই। অধিকার আদায়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।”
আয়োজকদের ভাষ্য, এটি শুধু একটি সাক্ষ্য প্রদান সভা নয়; বরং দক্ষিণ কোরিয়ায় অভিবাসী শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের নতুন অধ্যায়। বৈষম্যমূলক আইন পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন আরও জোরদার করার ঘোষণাও দেন তারা।