প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারায় অবস্থিত সাফারি পার্ক পরিদর্শন করেছেন। এর আগে দুপুরে কক্সবাজার সদরের পিএমখালি ইউনিয়নের পাতলী খালের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন। ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক পরিদর্শনে সঙ্গে ছিলেন তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও। তাঁরা পার্কের ভেতরের বিভিন্ন জায়গা ঘুরে ঘুরে দেখেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী খুবই উচ্ছ্বসিত ছিলেন।
এ সময় সাফারি পার্কের মূল ফটকের সামনে একটি নাগলিঙ্গম গাছের চারা রোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী। সাফারি পার্কের স্মারক বইয়ে তিনি ও ডা. জুবাইদা রহমান স্বাক্ষর করেন।
এর আগে ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু এবং প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।
এরপর দুপুরে পেকুয়া উপজেলায় মেহেরনামা বাজারপাড়া এলাকায় শহীদ ওয়াসিমের কবর জিয়ারত করেন প্রধানমন্ত্রী। কবর জিয়ারতের সময়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান কাজল প্রমুখ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পরে প্রধানমন্ত্রী ওয়াসিম আকরামের পরিবারের সাথে দেখা করেন এবং তাদের খোঁজ-খবর নেন এবং ওয়াসিমের পরিবারের সদস্যদের হাতে তুলে দেন ২০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র।
শনিবার বেলা তিনটায় ডুলাহাজারার মালুম ঘাট সংরক্ষিত বনে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে দেশের প্রত্যেক নাগরিককে একটি করে গাছের চারা রোপনের অনুরোধ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘আমি দেশের সকলের কাছে আহ্বান জানাব আপনার সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে, আপনার সন্তান যেন একটি সুন্দর পরিবেশে বুক ভরে শ্বাস নিতে পারে এই বিষয়টি মাথায় রেখে, এই চিন্তা থেকে আজকে থেকে প্রত্যেকে দয়া করে যার যেখানে সম্ভব সেখানে একটি করে বৃক্ষের চারা রোপণ করবেন।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা যদি এই বৃক্ষরোপণ অভিযানকে সফল করতে পারি তাহলে এতটুকু আমরা ধারণা করতে পারি যে, আগামী দিনে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ঠিকভাবে বুক ভরে পরিষ্কার শ্বাস নিতে পারবে। আসুন আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে একটি নিশ্চয়তা দেই একটি পরিষ্কার একটি দূষণ মুক্ত পরিবেশ গড়তে পারি যেখানে আমাদের প্রজন্ম পরিস্কার পরিবেশে বাস করবে।’
প্রধানমন্ত্রী তার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘নির্বাচনের আগে আমরা দেশের মানুষের কাছে ওয়াদা করেছিলাম নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি যেগুলো দিয়েছিলাম তার মধ্যে একটি প্রতিশ্রুতি ছিল যে আমরা যদি আল্লাহর রহমতে সরকার গঠন করতে পারি তাহলে আমরা দেশে বৃক্ষ রোপন কর্মসূচি শুরু করব এবং আমাদের লক্ষ্য থাকবে বছরে অন্তত আল্লাহর রহমতে পাঁচ কোটি গাছ লাগানো। আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছের চার রোপণ করব আমরা।’
তিনি বলেন, ‘আমি আনুষ্ঠানিকভাবে আজকে এই বৃক্ষরোপণ অভিযান ঘোষণা করছি। আমরা শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করছি। আমরা আশা করি আমাদের ইচ্ছা আমাদের প্রত্যাশা যে আমরা আগামী দিনে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যাতে বুক ভরে মুক্ত শ্বাস গ্রহণ করতে পারে, সেরকম একটি পরিবেশ আমরা গড়ে তুলতে পারবো ইনশাআল্লাহ।’
এর আগে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কক্সবাজার বিমানবন্দরে নেমে মুষল বৃষ্টির মধ্যে নিজেই গাড়ি চালিয়ে খাল খনন কর্মসূচির স্থলে যান। পাশের আসনে বসান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে।
এরপর সেখান থেকে আবারও নিজে গাড়ি চালিয়ে ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় পুরো রাস্তাজুড়ে হাজার হাজার স্থানীয় সাধারণ জনগণ এবং দলীয় নেতাকর্মীরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ফুল ছিটিয়ে ও হাত নেড়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান এবং স্লোগান দিতে থাকেন।
এছাড়া, চকরিয়া উপজেলা থেকে আলাদা হওয়া মাতামুহুরি উপজেলা ও নবগঠিত পেকুয়া পৌরসভার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উদ্ভোধন করেন তিনি।
এদিকে, রাত ৮ টায় চকরিয়া উপজেলার রাজনৈতিক সমাবেশে বক্তব্য রেখে তিনি কক্সবাজারের হোটেল লং বীচে আয়োজিত সুধী সমাবেশে যোগ দিবেন এবং তারপর মেরিনড্রাইভর পাশে সমুদ্রসৈকত পরিদর্শন করবেন বলে কথা রয়েছে।