লক্ষ্মীপুর জেলার প্রধান বাস টার্মিনাল। প্রতিদিন এখান থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, নোয়াখালীসহ দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে শত শত বাস ছেড়ে যায়। অথচ সামান্য বৃষ্টিতেই টার্মিনালজুড়ে জমে পানি। বড় বড় গর্ত কাদা-পানিতে ঢেকে যাওয়ায় কোনটি রাস্তা আর কোনটি গর্ত, তা বোঝার উপায় থাকে না। বাসে উঠতে-নামতে গিয়ে প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের। ভোগান্তিতে পড়ছেন চালক, পরিবহনশ্রমিক, পথচারী ও আশপাশের ব্যবসায়ীরাও।
সরেজমিনে লক্ষ্মীপুর শহরের ভোলা-বরিশাল সড়কের শুরুতে অবস্থিত বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, পুরো টার্মিনালজুড়ে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত। বৃষ্টির পানি জমে কোথাও কোথাও ছোট জলাশয়ের মতো দৃশ্য তৈরি হয়েছে। বাস চলাচলের সময় কাদা-পানি ছিটকে পড়ছে যাত্রীদের গায়ে। অনেকে জুতা হাতে নিয়ে কাদা মাড়িয়ে বাসে উঠছেন। ভারী যানবাহনের চাপে গর্তগুলো আরও বড় হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, এই টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন জেলার ছয়টি উপজেলা ছাড়াও ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, নোয়াখালীসহ বিভিন্ন রুটে বাস চলাচল করে। প্রতিদিন শত শত যাত্রী এই টার্মিনাল ব্যবহার করলেও দীর্ঘদিন ধরে কোনো বড় ধরনের সংস্কার হয়নি।
ঢাকাগামী যাত্রী মো. মিলন বলেন, জেলার প্রধান বাস টার্মিনালের এমন অবস্থা খুবই হতাশাজনক। বৃষ্টি হলেই কাদা-পানি মাড়িয়ে বাসে উঠতে হয়। নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীদের সবচেয়ে বেশি কষ্ট হয়।
বাসচালক জাবেদ বলেন, গর্তের কারণে বাস চালাতে ঝুঁকি থাকে। বৃষ্টির সময় অনেক জায়গায় গাড়ির চাকা বসে যায়। এতে গাড়ির যন্ত্রাংশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
টার্মিনালের পাশে ব্যবসা করা সিরাজ মিয়া বলেন, পানি জমে থাকলে যাত্রীরা দোকানে আসে না। দিনের পর দিন ব্যবসায় লোকসান গুনতে হচ্ছে। বহুবার সংস্কারের দাবি জানানো হলেও দৃশ্যমান কোনো কাজ হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু টার্মিনালের রাস্তা নয়, এর অবকাঠামোর অবস্থাও বেহাল। ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত বাস টার্মিনালে ২০০৮ সালে একটি ভবন নির্মাণ করা হলেও সেটি এখন জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
এ বিষয়ে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জুলফিকার হোসেন দৈনিক সংবাদ প্রতিদিনকে বলেন, টার্মিনালের অভ্যন্তরীণ সড়ক সংস্কারের জন্য বরাদ্দের আবেদন পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই কাজ শুরু করা হবে।
তবে স্থানীয়দের দাবি, উন্নয়ন প্রকল্পের আশ্বাস অনেকবারই মিলেছে। এবার তাঁরা প্রতিশ্রুতি নয়, দ্রুত সংস্কারকাজের বাস্তবায়ন দেখতে চান। তাঁদের মতে, জেলার প্রধান প্রবেশদ্বারগুলোর অন্যতম এই বাস টার্মিনালের বেহাল চিত্র শুধু যাত্রীদের দুর্ভোগই বাড়াচ্ছে না, জেলার ভাবমূর্তিও ক্ষুন্ন করছে।