ভারতের দিল্লির যন্তরমন্তরে শনিবার অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সরব হলো ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, 'আরশোলারা ভয় পায় না, লড়াই চলবে।'
নিট কেলেঙ্কারিসহ বিভিন্ন ইস্যুতে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে অংশ নেন সমর্থকেরা। পুলিশ অনুমতি দেওয়ার পর নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত যন্তরমন্তরে জমায়েত হয়।
অভিজিৎ দীপকে বলেন, আন্দোলন মূলত শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষার জন্য এবং যারা এখনও পড়াশোনার মধ্যে আছে তাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য এই কর্মসূচি।
কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে যন্তরমন্তরে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয় দিল্লি পুলিশ। কয়েক হাজার পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হয়। সংগঠনের পক্ষ থেকে সমর্থকদের আগেই নির্দেশ দেওয়া হয় কর্মসূচিস্থলে প্রতিটি কার্যক্রম ভিডিও করতে এবং পুলিশের কোনো সন্দেহজনক আচরণ দেখা গেলে তা রেকর্ড করতে।
এছাড়া সমর্থকদের জাতীয় পতাকা ও বই হাতে নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। সংগঠন দাবি করে, কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ হবে এবং অংশগ্রহণকারীরা যেন পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে যোগ দেন। প্রতিবাদকারীদের গরম থেকে সতর্ক থাকতে পানি পান ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে আসার নির্দেশনাও দেওয়া হয়।
সম্প্রতি নিট পরীক্ষা সংক্রান্ত বিতর্ক ও অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে দেশজুড়ে আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে গত সোমবার সামাজিক মাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক ভিডিও বার্তায় অভিজিৎ দীপকে বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার কারণে বহু শিক্ষার্থী আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে স্বাক্ষর করেছেন আট লাখ তেলাপোকা।
প্রসঙ্গত, সিজেপি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত দেশের তরুণ সমাজের একাংশের প্রতি কটাক্ষ করে বলেন, ‘এক শ্রেণির তরুণ রয়েছেন, যারা কোথাও কিছুই করতে পারেননি। কোনো পেশায় জায়গা করে নিতে পারেননি। কোনো কাজ জোগাড় করতে পারেননি। তাদের কেউ সাংবাদিক হয়েছেন, কেউ সামাজিক মাধ্যমে ঢুকে গেছেন, কেউ আইন পেশায়, কেউবা তথ্য জানার অধিকার আন্দোলনের কর্মী।’ এই তরুণদের ‘তেলাপোকা’ হিসেবে অভিহিত করেন তিনি। ওই মন্তব্যের পরপরই সামাজিক মাধ্যমে ককরোচ জনতা পার্টি শুরু করেন অভিজিৎ দীপকে। ভারতের ক্ষুব্ধ তরুণরা অনলাইনে একাট্টা হন।
অল্প সময়ের মধ্যেই ইনস্টাগ্রামে সিজেপির অনুসারীর সংখ্যা গিয়ে ঠেকে দুই কোটির ঘরে। আর তাদের এক্স অ্যাকাউন্টে সদস্য সংখ্যা দুই লাখ ছাড়িয়ে যায়। ইনস্টাগ্রামে ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি ও বিরোধী দল কংগ্রেসের যত অনুসারী রয়েছে, তার চেয়েও বেশি পেয়েছে সিজেপি। ভারত সামাজিক মাধ্যমের কনটেন্ট অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। সিজেপির বেশ কয়েকটি অ্যাকাউন্ট দেশে ব্লক করে দেওয়া হয়েছে, তবে ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টটি ভারত থেকেই দেখা যাচ্ছে।
সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা