একসঙ্গে সারি বেঁধে চারটি কবর খোঁড়ার এই দৃশ্য, আর একই সাথে একই পরিবারের ৪ সদস্যের দাফনের প্রস্তুতি কোনদিন দেখেনি এলাকাবাসী। তাই তারা হতবাক এ দৃশ্য দেখে। এ যেন একটি পরিবারের নয়, পুরো এলাকার মানুষের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ। স্বজনদের আহাজারি আর শোকের মাতমে ভারি হয়ে গেছে লক্ষ্মীপুর সদরের তিতারকান্দি গ্রামের পরিবেশ। পুরো এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এখানে।
বলছি গত বৃহস্পতিবার মর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত মুফতি আবদুল মোমিন ও তার পরিবারের ৪ সদস্যের কথা।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) তাদের চারজনের মরদেহ একসাথে তিতারকান্দি গ্রামে পৌঁছালে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারনা হয়। চারিদিকে এলাকাজুড়ে শুধু শোকের মাতম আর আহাজারি।
গত বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সন্ধ্যায় কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কালাকচুয়া এলাকায় এ মর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনা নিহত হন মুফতি আবদুল মোমিন ও পরিবারের ৪ সদস্যসহ ৫ জন
সেদিন পরিবারের ৫ সদস্যকে নিয়ে একটি প্রাইভেট কারযোগে লক্ষ্মীপুর থেকে ঢাকায় যাচ্ছিলেন তিনি। পথিমধ্যে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের কালাকচুয়া এলাকায় পৌঁছলে যাত্রীবাহী স্টার লাইন পরিবহনের একটি বাস পেছন থেকে প্রাইভেটকারটিকে সজোরে ধাক্কা দিলে মুহুর্তেই দুমড়েমুচড়ে যায় গাড়িটি। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন প্রাইভেটকারে থাকা চালকসহ মুফতি আবদুল মোমিন ও তার পরিবারের চার সদস্য।
নিহতরা হলেন—মুফতি আব্দুল মোমিন, তার স্ত্রী নিলুফা আফরোজ ঝর্ণা, মেয়ে লাবিবা এবং ছেলে সাহেদ আশরাফ। এ সময় তাদের সঙ্গে থাকা ১২ বছর বয়সী পুত্র আবরার অলৌকিকভাবে বেঁচে যান। কিন্তু চোখের সামনে পরিবারের সবাইকে হারিয়ে এখন বাকরুদ্ধ সে।
নিহত মুফতি আব্দুল মোমিন খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা ফয়সাল আহমাদের (ভগ্নিপতি) ছোট বোন ঝর্ণার স্বামী। তাঁর বাড়ী নোয়াখালী জেলার সেনবাগ উপজেলার ছাতারপাইয়া গ্রামে। তবে তিনি থাকতেন ঢাকার মোহাম্মদপুর ও লক্ষ্মীপুরের তিতারকান্দি গ্রামে তাঁর শ্বশুর বাড়ীতে।
মুফতি আব্দুল মোমিন জামেয়া মোহাম্মদীয়া আরাবিয়া ঢাকা মাদ্রাসার শিক্ষক ছিলেন। পরিবারের ছয় সদস্যের মধ্যে চারজনই এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান। এ ঘটনায় পরিবারের আরেক সদস্য আবরার আহত হলেও তিনি বর্তমানে আশংকামুক্ত রয়েছেন। দুর্ঘটনার সময় বড় ছেলে হুজাইফা বাড়িতে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান।
শুক্রবার বাদ জুম্মা তিতারকান্দির গ্রামের বশা হাজী পাটোয়ারী বাড়ি জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে নামাজে জানাজা শেষে মসজিদের পাশে তাঁর শ্বশুরদের পারিবারিক কবরস্থানে মুফতি আবদুল মোমিন ও তাঁর পরিবারের ৪ সদস্যের দাফন সম্পন্ন হয়।
এদিকে নিহতের ঘটনায় দায়ীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্বজনরা।
খবর পেয়ে নিহতদের বাড়িতে ছুটে যান সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করে তিনি বলেন, নিহতদের পরিবারের পাশে সরকার রয়েছে। যথাযথ নিয়ম মেনে আবেদন করলে তারা সরকারি সহয়তা পাবে। এখন তাদের দাফনের জন্য কিছু সহায়তা করা হয়েছে। তিনি দুর্ঘটনা রোদে সকলকে সচেতন হওয়ার অনুরোধ জানান।