প্রকাশ: শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৫:১৭ পিএম (ভিজিট : ২৮৭)
বাংলাদেশে কঠোর নজরদারির ফলে মাদক হিসেবে পরিচিত ‘ফেনসিডিল’ দুষ্প্রাপ্য ও ব্যয়বহুল হয়ে ওঠায় মাদকাসক্তরা এখন ঝুঁকছে ভারত থেকে আসা নতুন ধরনের সিরাপ ‘এসকাফ’ (Escap) এবং ‘ফায়ারডিল’ (Fire-dil)-এর দিকে। হাত বাড়ালেই মিলছে এই মরণনেশা, যার কবলে পড়ে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে দেশের তরুণ ও যুবসমাজ। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য ও ওষুধ বিশেষজ্ঞদের মতে, ফেনসিডিলের মূল নেশাজাতীয় উপাদান ছিল ‘কোডিন ফসফেট’। পাচারকারীরা এখন একই উপাদান সমৃদ্ধ ভিন্ন ব্র্যান্ডের সিরাপ বাংলাদেশে পাচার করছে। এসকাফ এবং ফায়ারডিল উভয় সিরাপে উচ্চমাত্রার কোডিন রয়েছে। মূলত কাশির উপশমকারী হিসেবে তৈরি হলেও মাদকাসক্তরা এটি নেশার জন্য ব্যবহার করছে।
গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, গত এক বছরে সীমান্ত এলাকাগুলোতে ফেনসিডিলের চেয়ে ‘এসকাফ’ উদ্ধারের পরিমাণ প্রায় ৩০% বৃদ্ধি পেয়েছে। সীমান্ত দিয়ে বস্তাভর্তি এই সিরাপ পাচার হয়ে আসছে। রাজধানীর বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় সোর্সের মাধ্যমে এই সিরাপ ৩০০০ থেকে ৪০০০ টাকায় (অবস্থাভেদে কম-বেশি) বিক্রি হচ্ছে।
কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থী এবং শ্রমজীবী তরুণদের মধ্যে এই সিরাপের জনপ্রিয়তা সবচেয়ে বেশি। কারণ এটি সেবন করলে কোনো দুর্গন্ধ থাকে না, ফলে পরিবারের সদস্যদের কাছে ধরা পড়ার ভয় কম থাকে। এ ব্যাপারে এক চিকিৎসকের কাছে প্রশ্ন রাখলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এসকাফ বা ফায়ারডিলের মতো সিরাপ অতিরিক্ত মাত্রায় সেবনের পরিণাম ভয়াবহ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন এসকাফ বা ফায়ারডিলের মতো সিরাপ স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি, অঙ্গহানি, সরাসরি লিভার এবং কিডনিকে অকেজো করা সহ মানসিক বিকৃতি ঘটায়। দীর্ঘমেয়াদী সেবনে মস্তিষ্কের কোষ ধ্বংস হয় এবং স্মৃতিশক্তি লোপ পায়।
আরো বলেন, আসক্ত ব্যক্তিরা খিটখিটে মেজাজ, অনিদ্রা এবং তীব্র বিষণ্নতায় ভোগে, যা থেকে অনেক সময় আত্মহত্যার প্রবণতা তৈরি হয়। এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, আমরা কোডিন ভিত্তিক যেকোনো সিরাপকেই ‘খ’ শ্রেণির মাদক হিসেবে গণ্য করি।
ফেনসিডিলের নাম বদলে এসকাফ বা ফায়ারডিল আসলেও আইনের হাত থেকে বাঁচার সুযোগ নেই। ইতোমধ্যে আমরা সীমান্ত এলাকায় টহল জোরদার করেছি এবং বেশ কিছু বড় চালান আটক করেছি। শুধুমাত্র ধরপাকড় করে এই মরণনেশা বন্ধ করা সম্ভব নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিভাবকদের সচেতনতা এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় ওষুধের চোরাচালান বন্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ না করলে ‘এসকাফ’ ও ‘ফায়ারডিল’ হবে আগামীর সবথেকে বড় সামাজিক অভিশাপ।