প্রকাশ: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৬:৫৮ পিএম (ভিজিট : ২১)
নরসিংদীর এক ব্যবসায়ী ব্যাংক ঋণ মওকুফ সংক্রান্ত সহায়তার প্রলোভনে ২৫ লাখ টাকা প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন। ভুক্তভোগী সুমনের দাবি, টাকা ফেরত চাইলে অভিযুক্তরা এখন তাকে ও তার পরিবারকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সুমন ২০২২ সালে ব্যবসার জন্য একটি বেসরকারি ব্যাংক থেকে প্রায় এক কোটি টাকা ঋণ নেন। পরবর্তীতে ব্যবসায় লোকসানের কারণে তিনি ঋণের কিস্তি ও সুদ পরিশোধে সংকটে পড়েন। এ অবস্থায় উত্তরখানের কাচকুরা এলাকার বাসিন্দা মো. আব্দুর রহিম (৫৩) ও তার শ্যালক ইসমাইল (৪৮) তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন বলে অভিযোগ।
সুমনের ভাষ্য, রহিম ও ইসমাইল নিজেদের ব্যাংক-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রভাবশালী দাবি করে ঋণের সুদ মওকুফ করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। এর বিনিময়ে তারা মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করেন। তাদের কথায় বিশ্বাস করে তিনি ব্যাংক চেকের মাধ্যমে ২৫ লাখ টাকা প্রদান করেন। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও প্রতিশ্রুত কাজ সম্পন্ন হয়নি এবং অর্থ ফেরতও দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, পাওনা টাকা ফেরত চাইলে অভিযুক্তরা উল্টো তাকে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ ও হুমকি দিতে শুরু করেন। তারা নিজেদের রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী বলে পরিচয় দিয়ে মামলা-হামলা ও গুমের ভয় দেখাচ্ছেন বলেও দাবি করেন সুমন। একজন সংখ্যালঘু ব্যবসায়ী হিসেবে তিনি নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
ন্যায়বিচার পাওয়ার বিষয়ে অনিশ্চয়তার কথা উল্লেখ করে সুমন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূতের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। অভিযোগের পর ভারতীয় দূতাবাস বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে এনেছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।
এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, ব্যবসায়ীদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে প্রতারণা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি, যাতে ব্যবসায়ী সমাজের আস্থা ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় থাকে। অন্যথায়, দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করার সাহস হারাবে এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট হবে। উল্লেখ্য, অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্তদের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।