দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে উত্তর কোরিয়ায় ড্রোন পাঠানোর অভিযোগে শুক্রবার আরো ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। প্রসিকিউটরদের দাবি, ২০২৪ সালে তার বিতর্কিত সামরিক আইন জারির জন্য একটি অজুহাত তৈরির উদ্দেশ্যেই এই অভিযান চালানো হয়েছিল।
বিশেষ প্রসিকিউটররা গত এপ্রিল মাসে অভিযোগ করেন, ড্রোন ব্যবহার করে ‘যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি’ তৈরি করার চেষ্টা করে ইয়ুন দেশের জাতীয় নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছিলেন। এর আগে, জাতীয় সংসদকে কার্যত অচল করার উদ্দেশ্যে সামরিক আইন জারি করে বিদ্রোহে নেতৃত্ব দেওয়ার দায়ে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইয়ুনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। নতুন এই রায় সেই দণ্ডের পরই এলো।
সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের একজন মুখপাত্র জানান, ড্রোন-সংক্রান্ত মামলায় ইয়ুনকে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।তবে তিনি রায়ের বিস্তারিত প্রকাশ করেননি।
দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদ সংস্থা ইয়োনহাপ সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, প্রসিকিউটরদের মতে এই ড্রোন অভিযান উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে উত্তেজনা বাড়িয়েছিল। পাশাপাশি ড্রোনগুলো ভূপাতিত হওয়ার পর দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক সক্ষমতা সম্পর্কিত কিছু গোপন তথ্যও ফাঁস হয়ে যায়। ইয়ুন বিদ্রোহের মামলায় দেওয়া যাবজ্জীবন সাজার বিরুদ্ধে আপিল করেছেন।
তিনি দাবি করেছেন, দেশের স্বার্থ রক্ষার জন্যই তিনি সামরিক আইন ঘোষণা করেছিলেন।
তবে তার আইনজীবীরা ড্রোন-সংক্রান্ত সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের বক্তব্য, অভিযানের জন্য ইয়ুন কোনো পূর্ব নির্দেশ দেননি বা পরে অনুমোদনও দেননি। আইনজীবীদের মতে, ওই সময়ে উত্তর কোরিয়া সীমান্ত পেরিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় আবর্জনাবাহী বেলুন পাঠাচ্ছিল। ড্রোন অভিযান ছিল তার জবাবে নেওয়া আত্মরক্ষামূলক ও বৈধ পদক্ষেপ।
এর সঙ্গে সামরিক আইন ঘোষণার কোনো সম্পর্ক নেই। তারা প্রসিকিউশনের অভিযোগকে ‘অনুমানভিত্তিক ও মিথ্যা গল্প’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
দুই কোরিয়ার মধ্যে ড্রোন উড্ডয়ন দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনার অন্যতম কারণ। কারণ, দুই দেশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘোষণা করেনি।
এ বছরের শুরুতে এক তদন্তে জানা যায়, সরকারি কর্মকর্তারা জানুয়ারিতে পারমাণবিক অস্ত্রধারী উত্তর কোরিয়ায় ড্রোন পাঠিয়েছিলেন। এরপর দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জায়ে-মিউং এ জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।
উত্তর কোরিয়ার নেতা কিমের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং প্রেসিডেন্ট লি-এর মন্তব্যকে ‘বিচক্ষণ আচরণ’ বলে স্বাগত জানান। তবে একই সঙ্গে উত্তর কোরিয়া আবারও দক্ষিণ কোরিয়াকে তার সবচেয়ে বৈরী শত্রু হিসেবে আখ্যায়িত করায় দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের সম্ভাবনা আরো অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।