ক্রিকেটের মাঠে বল হাতে লড়াই করেন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। কিন্তু শুক্রবার গভীর রাতে তাকে লড়তে হলো ভিন্ন এক যুদ্ধে নিজের দেশেই, নিজের শহরে, আইনের পোশাক পরা কিছু মানুষের বিরুদ্ধে।
জাতীয় দলের অফ স্পিনার নাঈম হাসান ঢাকায় প্রিমিয়ার লিগ শেষে চট্টগ্রাম ফিরছিলেন বিমানে। ফ্লাইট দেরিতে পৌঁছানোয় রাত সাড়ে এগারোটায় বিমানবন্দর থেকে সিএনজিতে উঠলেন বাড়ির পথে। লালখানবাজার ফ্লাইওভারের কাছে এসেই সব এলোমেলো হয়ে গেল।
পোশাকধারী পুলিশ সিএনজি থামিয়ে চালকের কাগজপত্র চেক করতে লাগল। নাঈম নিজেই এগিয়ে এসে বললেন, ব্যাগও চাইলে দেখতে পারেন। কিন্তু এর পরই ঘটল অভাবনীয় ঘটনা।
হঠাৎ একজন তার গলা চেপে ধরে টেনে গাড়িতে তুলতে চাইল। প্রতিবাদ করতেই শুরু হলো নির্মম মারধর পাইপ আর লাঠি নিয়ে। নিজেকে ক্রিকেটার পরিচয় দিলেন, আশেপাশে জড়ো হওয়া শত মানুষ তার পরিচয় নিশ্চিত করল ,তবু থামেনি প্রহার।
উল্টো ধমক এলো, "তুই আসামি, মুখ বন্ধ রাখ।"
পরে তাকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হলো খুলশী থানায়। সেখানে মোবাইল ফেরত পেয়ে প্রথমেই ফোন করলেন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালকে। তামিম তাৎক্ষণিকভাবে থানার ওসি ও নাঈমের বাবার সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি সামাল দিলেন।
তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, হামলাকারীদের মধ্যে দুজন পোশাকধারী পুলিশ সদস্য থাকলেও মূল উস্কানিদাতা ছিলেন পাঞ্জাবি পরা মোহাম্মদ সোহেল যিনি নিজেকে ডিবির লোক বলে দাবি করেন। উপস্থিত জনতা পরিচয়পত্র চাইলে তা দেখাতে পারেননি তিনি। পরে স্থানীয়রাই তাকে ধরে থানায় পৌঁছে দেয়।
নাঈমের পরিবারের অভিযোগ, থানায় নিয়ে যাওয়ার পরও সোহেলকে ওসির পাশে বসিয়ে রাখা হয়েছিল, আর নাঈমের বাবাকে ১৫ মিনিট বাইরে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়।
ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেয় চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি)। এসআই শফিকুল ইসলাম ও কনস্টেবল রাসেলকে সাময়িক বরখাস্ত। সোর্স মোহাম্মদ সোহেলকে আটক। একজন উপকমিশনারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন। পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ। সিএমপি কমিশনার হাসান মোহাম্মদ শওকত আলী বলেন, এ ঘটনাকে তারা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন এবং কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
সিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার আমিরুল ইসলামও স্পষ্ট জানিয়েছেন, দোষী যেই হোক, জিরো টলারেন্স নীতিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে নাঈমের বড় ভাই কামরুল আলম থানায় লিখিত মামলা দায়ের করেছেন, যেখানে সোহেল তৃতীয় আসামি।
হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ২৬ বছর বয়সী এই স্পিনার এখন বাড়িতে বিশ্রাম নিচ্ছেন। শারীরিক আঘাতের চেয়েও হয়তো বড় ক্ষত তার মনে, দেশের হয়ে মাঠে লড়া একজন ক্রিকেটারকে এভাবে হেনস্তার ঘটনা দেশজুড়ে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।