প্রকাশ: শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:৪৩ পিএম (ভিজিট : )
২০১৪ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত কুড়িগ্রাম-২ আসনে ক্ষমতাসীন দলের কোনো সংসদ সদস্য নির্বাচিত না হওয়ায় জেলার রাজনৈতিক ও উন্নয়ন বাস্তবতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। টানা তিনটি জাতীয় নির্বাচনে সরকার গঠনকারী দলের বাইরে থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় এ আসনকে রাজনৈতিকভাবে ব্যতিক্রমী হিসেবে দেখা হচ্ছে।
২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলেও কুড়িগ্রাম-২ আসনে জোট শরিক জাতীয় পার্টি-র প্রার্থী তাজুল ইসলাম চৌধুরী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
পরবর্তীতে ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবারও আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট সরকার গঠন করে। সেই নির্বাচনেও কুড়িগ্রাম-২ আসনে জাতীয় পার্টির জোট প্রার্থী আলহাজ্ব পনির উদ্দিন আহমেদ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুনরায় আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলেও কুড়িগ্রাম-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হামিদুল হক খন্দকার বিজয়ী হন। একই বছরের জুলাই মাসে দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মধ্য দিয়ে সরকারের পতন ঘটে এবং গঠিত হয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে ২০২৬ সালে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে এবার বিপুল আসনে সরকার গঠনের পথে রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। তবে এবারও কুড়িগ্রাম-২ আসনে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী নয়, ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ড. আতিকুর রহমান মুজাহিদ সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, টানা এক যুগের বেশি সময় ধরে ক্ষমতাসীন দলের বাইরে থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় কুড়িগ্রাম-২ আসন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে প্রত্যাশিত গতি পায়নি—এমন অভিযোগ স্থানীয়দের একটি অংশের। তাদের দাবি, সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সরাসরি দলীয় প্রতিনিধিত্ব না থাকায় বড় প্রকল্প ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে পিছিয়ে পড়েছে এ জনপদ।
তবে অপর একটি মহল মনে করে, উন্নয়ন নির্ভর করে জনপ্রতিনিধির সক্রিয়তা, দক্ষতা ও কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয়ের ওপর; শুধুমাত্র ক্ষমতাসীন দলের এমপি না থাকাই পিছিয়ে পড়ার একমাত্র কারণ নয়।
নতুন নির্বাচিত সংসদ সদস্য আতিক মুজাহিদের প্রতি এখন কুড়িগ্রাম-২ আসনের জনগণের প্রত্যাশা—দলীয় অবস্থান নির্বিশেষে এলাকার সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা। অবহেলিত এ জনপদের সড়ক, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানের খাতে দৃশ্যমান অগ্রগতি হবে কি না, তা এখন সময়ই বলে দেবে।