শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলায় বিএনপি ও জামায়াতের সংঘর্ষে জামায়াত নেতা রেজাউল করিম নিহত হওয়ার ঘটনায় থমথমে হয়ে উঠেছে শেরপুর- ৩ আসন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
নিহত রেজাউল করিম ছিলেন শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি। তার মৃত্যুর পর গ্রামের বাড়ি চাউলিয়ায় শোকের ছায়া নেমে আসে। বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটায় তার বাড়ি পাশের স্কুল মাঠে জানাজা নামাজ হাজারো মানুষের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়। পরে নিজ বাড়ির কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। দাফন শেষে আত্মীয়-স্বজন ও দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে গভীর শোকের আবহ বিরাজ করে।
এদিকে আত্মীয়-স্বজন, রাজনৈতিক সহকর্মী ও সাধারণ মানুষ তার বাড়িতে ভিড় করছেন। সবার মুখে মুখে একটাই দাবি- দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি।
জানা গেছে, বুধবার শেরপুর- ৩ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে সামনের সারির চেয়ারে বসা নিয়ে বিএনপি ও জামায়াত কর্মীদের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরে সন্ধ্যায় ঝিনাইগাতী শহরে ফের দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এতে সেনা সদস্য, গণমাধ্যমকর্মীসহ প্রায় দুই শতাধিক ব্যক্তি আহত হন।
এ ঘটনার জন্য প্রশাসনের দায়িত্বে অবহেলাকে দায়ী করেছে জামায়াত। তাদের অভিযোগ, রাজনৈতিকভাবে ভীত হয়ে এ হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে বিএনপি বলছে, সহিংসতা কোনোভাবেই কাম্য নয়, জামায়াত চাইলেই এ সংঘাত এড়ানো যেত।
এই ঘটনায় শেরপুর-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল বলেন, “ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত এবং নির্বাচনকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে সংঘটিত হয়েছে। সরকারের উচিত দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা এবং দায়ীদের খুঁজে বের করা।”
অন্যদিকে জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাফিজুর রহমান বলেন, “২৪ ঘণ্টার মধ্যে জড়িতদের গ্রেপ্তার না করা হলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। আমরা শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চাই, তবে দোষীদের অব্যাহতি দেওয়া হলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেব।”
জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, “ঘটনাটি তদন্ত করে দায়ীদের শনাক্ত পূর্বক তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হচ্ছে।”
এদিকে এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শেরপুরের সচেতন মহল। তারা বলেন, সহিংসতা ও প্রাণহানি গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য হুমকি। জড়িত সবাইকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।