মঙ্গলবার ● ৬ অক্টোবর ২০২৬ ● ২১ আশ্বিন ১৪৩৩
 
শিরোনাম:


হাজীগঞ্জ বড় মসজিদ ওয়াকফ এস্টেট নিয়ে অপপ্রচার: স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে মোতওয়াল্লী নাজেহাল
প্রকাশ: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৫২ পিএম  (ভিজিট : ১৪)
হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদ ও আহমাদ আলী পাটওয়ারী ওয়াকফ এস্টেটকে ঘিরে বিভিন্ন মহলের অপপ্রচার ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপতৎপরতার অভিযোগ তুলে এর ব্যাখ্যা দিয়েছেন এস্টেটের মোতওয়াল্লী প্রিন্স শাকিল আহমেদ। সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এস্টেটের বিরুদ্ধে নানা বক্তব্য ও অভিযোগ প্রচার করা হচ্ছে দাবি করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি। একই সঙ্গে এসব প্রচারের মাধ্যমে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে প্রভাব বিস্তার করে শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালিত এস্টেটে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন। লিখিত বক্তব্যে মোতওয়াল্লী বলেন, এস্টেটের সম্পদ ও স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে তারা বিভিন্ন ধরনের হয়রানি ও হুমকির মুখে পড়ছেন। তার দাবি, এস্টেটের সঙ্গে কয়েকজনের আর্থিক ও সম্পত্তিগত বিরোধ নিয়ে মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

আদালতের মাধ্যমে কোনো পক্ষ পাওনা বা সম্পত্তির বৈধ অধিকার প্রমাণ করতে পারলে ওয়াকফ বিধি অনুযায়ী তা বাস্তবায়ন করা হবে। কিন্তু আদালতের রায়ের আগেই বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার চালানোর উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। লিখিত বক্তব্যে কয়েকজন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এস্টেটের বিরোধের বিষয়ও তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে ঠিকাদার মো. কবির হোসেন লিটনের বিরুদ্ধে কাজের অর্থ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ করা হয়েছে। মোতওয়াল্লীর দাবি, পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে ভুয়া ভাউচার ও অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে এবং এ বিষয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানা যায়নি।

এস্টেটের সঙ্গে আজাদ রহমান মাসুদ মজুমদারের আর্থিক বিরোধের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। লিখিত বক্তব্য অনুযায়ী, নির্মাণাধীন মার্কেটের তিনটি কক্ষ বাবদ তিনি ৩৮ লাখ টাকা জমা দিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে জমাকৃত অর্থের চেয়ে বেশি অর্থ দাবি করার বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে বলে দাবি করা হয়। এ ছাড়া মোহাম্মদ আলাল হোসেনের বিরুদ্ধে সর্বসাধারণের ব্যবহৃত কবরস্থানের জায়গা নিয়ে মালিকানা দাবি ও দখলের চেষ্টা করার অভিযোগ আনা হয়েছে। 

অন্যদিকে এস্টেটের হিসাবরক্ষক মো. শাহ আলমের বিরুদ্ধেও ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজশ করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তোলা হয়েছে। লিখিত বক্তব্যে মো. মিজান ব্যাপারী নামের এক ঠিকাদারের কাছ থেকেও ২০২২ সালের কাজের হিসাব বুঝে নেওয়ার জন্য একাধিকবার তাগাদা দেওয়ার কথা জানানো হয়। এ বিষয়ে ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর ও ২০২৫ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি এখনো হিসাব বুঝিয়ে দেননি বলে দাবি করা হয়েছে। মোতওয়াল্লী পক্ষের দাবি, আহমাদ আলী পাটওয়ারী (রহ.) ১ দশমিক ১৯ একর সম্পত্তি দিয়ে ওয়াকফ এস্টেটের যাত্রা শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে দায়িত্বে থাকা মোতওয়াল্লীদের মাধ্যমে এর সম্পত্তির পরিমাণ বেড়ে ৯ দশমিক ৭০ একরে উন্নীত হয়েছে। লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, আহমাদিয়া কামিল মাদ্রাসা, জামিয়া আহমাদিয়া কাওমী মাদ্রাসা, হযরত মনিরুদ্দিন মনাই হাজী (রহ.) হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও মুনিরিয়া নূরানী মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে মোতওয়াল্লী পরিবার ভূমিকা রেখেছে।

এ ছাড়া হাজীগঞ্জ প্লাজা মার্কেট, হাজীগঞ্জ টাওয়ার মার্কেট, কাওমী মাদ্রাসা মার্কেট, রজনীগন্ধা মার্কেট, রজনীগন্ধা এক্সটেনশন এবং হযরত মকিমউদ্দিন শপিং সেন্টারের মতো বিভিন্ন কর্মসংস্থানমুখী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। মোতওয়াল্লী পক্ষের দাবি, নির্মাণাধীন প্রকল্পের কাজ এবং আর্থিক লেনদেন নিয়ে ঠিকাদার, হিসাবরক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে অনিয়মের কারণে বিভিন্ন জটিলতা তৈরি হয়েছে। এসব বিষয়ে বর্তমানে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, হযরত মকিমউদ্দিন শপিং সেন্টারের নির্মাণকাজ এগিয়ে নিতে ইসলামী ব্যাংক থেকে দুই ধাপে মোট ৮ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হয়েছিল। করোনা-পরবর্তী অর্থনৈতিক মন্দার কারণে দোকান বরাদ্দগ্রহীতাদের অর্থ ফেরত দিতে গিয়ে এস্টেট আর্থিক সংকটে পড়ে বলে দাবি করা হয়। মোতওয়াল্লী পক্ষ আরও দাবি করে, ব্যাংকের ঋণের একটি অংশ পরিশোধে ব্যক্তিগত সম্পত্তি বিক্রি করা হয়েছে।

এ ছাড়া বসতবাড়িও বর্তমানে ব্যাংকে মর্টগেজ রয়েছে বলে লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়। প্রিন্স শাকিল আহমেদ বলেন, ওয়াকফ এস্টেটের সম্পদ ও সুনাম রক্ষার পাশাপাশি ধর্মীয়, শিক্ষামূলক ও সেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে তারা কাজ করছেন। কিন্তু বিভিন্ন মহলের অপপ্রচারে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। তিনি বলেন, আদালতে বিচারাধীন বিষয়গুলো আইনানুগ প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি হওয়া উচিত। একই সঙ্গে মিথ্যা তথ্য প্রচার করে ওয়াকফ এস্টেট ও মোতওয়াল্লী পরিবারের সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।








আরও খবর


Loading...
Loading...
প্রকাশক: এম এন এইচ বুলু
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মাহফুজুর রহমান রিমন  |   উপদেষ্টা সম্পাদক : রাজু আলীম  
বিএনএস সংবাদ প্রতিদিন লি. এর পক্ষে প্রকাশক এম এন এইচ বুলু কর্তৃক ৪০ কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ, বুলু ওশেন টাওয়ার, (২১ তলা), বনানী, ঢাকা ১২১৩ থেকে প্রকাশিত ও শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৩৪ ফকিরাপুল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত।
ফোন:০২৯৮২০০১৯-২০ ফ্যাক্স: ০২-৯৮২০০১৬ ই-মেইল: [email protected]