সোমবার ● ৫ অক্টোবর ২০২৬ ● ২০ আশ্বিন ১৪৩৩
 
শিরোনাম:


১৭ বছর ধরে লিমনের চলাচল নিয়ন্ত্রণে শিকল, প্রয়োজন চিকিৎসা ও সহায়তা
প্রকাশ: রোববার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:১৫ পিএম  (ভিজিট : ১৪)
মানসিক ভারসাম্যহীন লিমন শরিফের এক পায়ে লোহার শিকল বাঁধা। শিকলের অপর প্রান্তটি ঘরের একটি খুঁটির সঙ্গে আটকানো। 

প্রায় ১৭ বছর ধরে তাঁর চলাচল নিয়ন্ত্রণে এই ব্যবস্থা ব্যবহার করা হচ্ছে। লিমন ফরিদপুরের সালথা উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়নের উজিরপুর গ্রামের মো. হাফেজ শরিফের ছেলে। 

লিমনের পরিবার জানান, লিমনকে শিকল ছাড়া রাখলে তিনি বাড়ির বাইরে চলে যান। 

কখনো গাছে ওঠেন, কখনো পুকুরে নেমে পড়েন। কোথায় চলে গেছেন, তা তিনি বুঝতে পারেন না। অনেক সময় তাঁকে খুঁজে বাড়িতে ফিরিয়ে আনতে হয়। 

তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং বাইরে চলে যাওয়া ঠেকাতে পরিবারের সদস্যরা এই ব্যবস্থা নিয়েছেন। 

লিমনের বয়স এখন ২০ বছর। মাত্র তিন বছর বয়সে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার পর তাঁর স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হয়। পরবর্তী সময়ে তাঁর কথা বলার সক্ষমতা কমে যায়। বর্তমানে তিনি মা-বাবা ছাড়া খুব কম কথা বলতে পারেন। 

স্বাভাবিকভাবে চলাফেরাও করতে পারেন না। 

তারা আরো জনান, লিমনের বাবা হাফেজ শরিফ পেশায় দিনমজুর। প্রায় তিন শতাংশ জমির ওপর তাঁদের বসতঘর। টিনের ছাউনি দেওয়া ঘরটির বেড়ার কিছু অংশ পলিথিন ও প্লাস্টিকের বস্তা দিয়ে তৈরি। এমন অবস্থ্যায় দৈনন্দিন ব্যয় মেটানোর পর লিমনের চিকিৎসা ও পরিচর্যার জন্য নিয়মিত অর্থ ব্যয় করা তাঁদের পক্ষে কঠিন। 

লিমনের বাবা হাফেজ শরিফ দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন কে বলেন, কেউ চায় না নিজের ছেলেকে শিকল দিয়ে বান্দিয়া রাখতে। ওকে ছাইড়া দিলে বাড়ির বাইরে চইলা যায়। 

একবার গাছে ওঠে, আবার পুকুরে নামে। কোথায় চলে গেছে, তা সেও বুঝে না। অনেক সময় কয়েক গ্রাম ঘুইরা তাকে খুঁইজা বাড়িতে নিয়া আসি। গত ১৭ বছরে সে কয়েকবার শিকল ছিঁড়া চইলা গেছিল। 

তাই ছেলেটাকে আটকায় রাখার জন্যই আমরা এই ব্যবস্থা করেছি। । 

চিকিৎসার বিষয়ে হাফেজ শরিফ বলেন, আমি দিনমজুরি কাজ করে সংসার চালাই। যা আয় করি, তা দিয়ে ঠিকমতো পরিবারের খরচ চালাতেই পারি না। লিমনকে বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসা করিয়েছি। 

কিন্তু ভাল চিকিৎসা করানোর মতো সামর্থ্য আমার নেই। 

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. ওয়াহিদুল আলী  বলেন, লিমন মানসিকভাবে অসুস্থ। তাঁর একটি প্রতিবন্ধী কার্ড রয়েছে। পরিবারটি আর্থিকভাবে অসচ্ছল। এই কারণে তাঁর নিয়মিত চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় পরিচর্যা নিশ্চিত করা পরিবারের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। 

লিমনের পরিবারের বসতঘরটিও নাজুক অবস্থায় রয়েছে। 

সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. দবির উদ্দিন বলেন, আপনাদের মাধ্যমে লিমন ও তাঁর পরিবারের বিষয়টি জানতে পারলাম। পরিবারের ঘরটি নাজুক অবস্থায় রয়েছে। 

আমি তাঁদের ঘরের জন্য টিনের ব্যবস্থা করে দেব। পাশাপাশি লিমনের চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তার বিষয়টিও দেখা হবে।








আরও খবর


Loading...
Loading...
প্রকাশক: এম এন এইচ বুলু
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মাহফুজুর রহমান রিমন  |   উপদেষ্টা সম্পাদক : রাজু আলীম  
বিএনএস সংবাদ প্রতিদিন লি. এর পক্ষে প্রকাশক এম এন এইচ বুলু কর্তৃক ৪০ কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ, বুলু ওশেন টাওয়ার, (২১ তলা), বনানী, ঢাকা ১২১৩ থেকে প্রকাশিত ও শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৩৪ ফকিরাপুল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত।
ফোন:০২৯৮২০০১৯-২০ ফ্যাক্স: ০২-৯৮২০০১৬ ই-মেইল: [email protected]