শনিবার ● ৩ অক্টোবর ২০২৬ ● ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩
 
শিরোনাম:


এক কাপ গাহওয়ায় ৩০০ বছরের গল্প: কফিতে সৌদির ঐতিহ্য, আতিথেয়তা ও ভালোবাসা
প্রকাশ: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৪ পিএম  (ভিজিট : ১৪)
গতকাল ১ অক্টোবর পালিত হয়েছে আন্তর্জাতিক কফি দিবস। বিশ্বের কোটি মানুষের কাছে কফি জনপ্রিয় একটি পানীয় হলেও সৌদি আরবে কফির গুরুত্ব আরও গভীর। দেশটিতে কফি শুধু পানীয় নয়—এটি আতিথেয়তা, সামাজিক সম্পর্ক, কৃষি এবং সাংস্কৃতিক পরিচয়ের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক দীর্ঘ ঐতিহ্য।

সৌদি আরবে ঐতিহ্যবাহী কফি পরিচিত ‘সৌদি কফি’ বা ‘গাহওয়া’ নামে। অতিথি বাড়িতে এলে কফি পরিবেশন করা সৌদি সমাজে সম্মান ও আতিথেয়তার অন্যতম প্রতীক। বিশেষ করে মজলিসে অতিথিদের ছোট ফিনজান কাপে কফি পরিবেশনের রীতি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসছে। UNESCO-ও আরবি কফি পরিবেশনকে আরব সমাজের উদারতা ও আতিথেয়তার প্রতীক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

সৌদিতে কফির ইতিহাস প্রায় ৩০০ বছরের

সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলে কফি চাষের ইতিহাস প্রায় ৩০০ বছরের পুরোনো। বিশেষ করে জাজান, আসির ও আল-বাহার পাহাড়ি এলাকায় কফি চাষ দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় মানুষের জীবিকা ও ঐতিহ্যের অংশ। খাওলানি জনগোষ্ঠীর কফি চাষের জ্ঞান ও পদ্ধতি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে চলে আসছে। ২০২২ সালে Khawlani coffee beans চাষের এই ঐতিহ্য UNESCO-এর অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়।

সৌদি কফি সাধারণত হালকা রঙের এবং এতে এলাচসহ বিভিন্ন মসলা ব্যবহার করা হয়। অঞ্চলভেদে জাফরান, লবঙ্গ, আদা বা দারুচিনিও যোগ করা হয়। কফি পরিবেশনের ঐতিহ্যবাহী পাত্র দাল্লা, আর ছোট কাপকে বলা হয় ফিনজান।

অতিথিকে কফি পরিবেশন শুধু পানীয় দেওয়ার বিষয় নয়; এটি সম্মান ও সৌজন্যের একটি সামাজিক রীতি। নিজের খামারে উৎপাদিত কফি অতিথিকে পরিবেশন করাকে বিশেষ সম্মানের বিষয় হিসেবেও দেখা হয়।

কফি সৌদি আরবের অন্যতম জনপ্রিয় পানীয়। ঐতিহ্যবাহী গাহওয়ার পাশাপাশি গত কয়েক বছরে দেশটিতে আধুনিক ক্যাফে ও specialty coffee সংস্কৃতিও দ্রুত বেড়েছে। ফলে একদিকে দাল্লায় গাহওয়া, অন্যদিকে আধুনিক ক্যাফেতে espresso ও বিভিন্ন brewing method—দুই ধারাই সৌদি কফি সংস্কৃতির অংশ হয়ে উঠেছে।

সৌদিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, দেশটি বিশ্বের উচ্চ কফি-ভোক্তা দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে এবং কফি খাতে সৌদিদের ব্যয় বছরে ১ বিলিয়ন সৌদি রিয়ালেরও বেশি।

সৌদি আরব এখন কফি পান ও আমদানির পাশাপাশি স্থানীয় উৎপাদনও বাড়াচ্ছে। ২০২৫ সালের সৌদি সরকারি তথ্য অনুযায়ী, জাজান, আসির ও আল-বাহা অঞ্চলে প্রায় ৩৯৮,০০০ কফি গাছ এবং ২,৫০০টির বেশি খামার ছিল; উৎপাদন সক্ষমতা বছরে প্রায় ২,৪০০ টন বলে উল্লেখ করা হয়।

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সৌদি কৃষি মন্ত্রণালয় আরও জানায়, জাজান, আসির, আল-বাহা, মক্কা ও নাজরান মিলিয়ে ১৩ লাখের বেশি উৎপাদনশীল কফি গাছ রয়েছে এবং বছরে ৮৭০ টনের বেশি কফি উৎপাদিত হচ্ছে।

কফির এই ঐতিহ্যকে জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরতে সৌদি আরব ২০২২ সালকে ‘Year of Saudi Coffee’ ঘোষণা করেছিল। এর মাধ্যমে স্থানীয় কফি, কৃষক, ঐতিহ্যবাহী প্রস্তুতপ্রণালী ও সৌদি আতিথেয়তার সংস্কৃতিকে আন্তর্জাতিকভাবে তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

ফলে সৌদি আরবে কফির গল্প এখন শুধু এক কাপ গাহওয়ার গল্প নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে প্রায় তিন শতাব্দীর কৃষি ঐতিহ্য, অতিথিপরায়ণতার সংস্কৃতি, UNESCO স্বীকৃতি, স্থানীয় কৃষকের জীবিকা এবং নতুন প্রজন্মের আধুনিক কফি সংস্কৃতি।

আন্তর্জাতিক কফি দিবসে তাই সৌদি আরবের কফি বিশেষ এক পরিচয়ের নাম—যেখানে এক কাপ গাহওয়ার সঙ্গে মিশে আছে দেশটির ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আতিথেয়তা।








আরও খবর


Loading...
Loading...
প্রকাশক: এম এন এইচ বুলু
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মাহফুজুর রহমান রিমন  |   উপদেষ্টা সম্পাদক : রাজু আলীম  
বিএনএস সংবাদ প্রতিদিন লি. এর পক্ষে প্রকাশক এম এন এইচ বুলু কর্তৃক ৪০ কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ, বুলু ওশেন টাওয়ার, (২১ তলা), বনানী, ঢাকা ১২১৩ থেকে প্রকাশিত ও শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৩৪ ফকিরাপুল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত।
ফোন:০২৯৮২০০১৯-২০ ফ্যাক্স: ০২-৯৮২০০১৬ ই-মেইল: [email protected]