প্রকাশ: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৪৭ পিএম
(ভিজিট : ১৫)
বিদেশগামী নাগরিকদের পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সনদ পাইয়ে দেওয়ার নামে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা চালিয়ে আসা একটি সংঘবদ্ধ চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ। সরকারি কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর জাল করে, নকল ওয়েবসাইট ও কিউআর কোড বানিয়ে ভুয়া সনদ তৈরি করে আসছিল চক্রটি।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মো. আশরাফ আলী খান (৩৬), মো. নিশান (৩৬), মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন (৪৮) এবং মো. আব্দুর রহমান (৪৬)।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিদেশগমনেচ্ছু এক ব্যক্তির পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের প্রয়োজন হলে এই চক্রের সন্ধান মেলে। দ্রুত ও ঝামেলাহীনভাবে ক্লিয়ারেন্স করিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে চক্রটি হাতিয়ে নেয় এক লাখ ২০ হাজার টাকা।
এরপর সরকারি কর্মকর্তার স্বাক্ষর নকল করে হুবহু আসল সনদের আদলে একটি জাল কাগজ তৈরি করা হয়। সনদটি যেন সহজে বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়, সেজন্য প্রকৃত কিউআর কোডের অনুকরণে একটি নকল কোড এবং একটি ভুয়া ওয়েবসাইটও বানিয়ে ফেলে তারা। ফলে কেউ ওই কিউআর কোড স্ক্যান করলে সরকারি সাইটের বদলে চলে যেতেন চক্রটির তৈরি করা জাল সাইটে।
ভুক্তভোগী সেই জাল সনদ আসল ভেবে সংশ্লিষ্ট ট্রাভেল এজেন্সিতে জমা দিলে যাচাই-বাছাইয়ের সময় ধরা পড়ে জালিয়াতির বিষয়টি। এরপর তিনি চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) মো. রাসেল জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই জেলা গোয়েন্দা শাখা তদন্তে নামে। তথ্য-প্রমাণ যাচাই, জিজ্ঞাসাবাদ, আর্থিক লেনদেনের সূত্র এবং প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে ধীরে ধীরে বের করা হয় চক্রের সদস্যদের পরিচয়। পরে জেলা বিশেষ শাখা ও গোয়েন্দা শাখার যৌথ অভিযানে রবিবার (১৬ আগস্ট) বাঁশখালী ও চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনায় বাঁশখালী থানায় ইতিমধ্যে একটি মামলাও হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এই চক্রের সঙ্গে আরও কয়েকজন জড়িত থাকতে পারে বলে তথ্য মিলেছে, এবং তাদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরও বলেন, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথি, আর এ ধরনের জালিয়াতি শুধু দেশের নথির বিশ্বাসযোগ্যতাই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ণ করতে পারে। তাই তিনি নাগরিকদের দালাল বা অবৈধ মধ্যস্বত্বভোগীর দ্বারস্থ না হয়ে নির্ধারিত সরকারি নিয়ম মেনে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন।