চট্টগ্রাম নগরীর ডিসি হিলে শুক্রবার বিকেলে অনুষ্ঠিত হলো শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের উল্টো রথযাত্রা মহোৎসব, যেখানে অংশগ্রহণ করেন প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক ভক্ত ও দর্শনার্থী। ইসকন নন্দনকানন ও প্রবর্তক ইসকন মন্দিরের যৌথ আয়োজনে এবং চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির তত্ত্বাবধানে ২৪ জুলাই বিকেল ৩টায় শুরু হয় এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ আবু সুফিয়ান। তিনি বলেন, উল্টো রথযাত্রা কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির একটি জীবন্ত দৃষ্টান্ত। তিনি জানান, বর্তমান সরকার সব ধর্মের মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষায় দৃঢ়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং দেশজুড়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের উৎসবগুলো নিরাপদ পরিবেশে উদযাপিত হচ্ছে।
রথযাত্রার শুভ উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের নতুন প্রশাসক ও বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ মাহবুবের রহমান। তিনি চট্টগ্রামকে সম্প্রীতির নগরী আখ্যা দিয়ে বলেন, এখানে যুগ যুগ ধরে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ পারস্পরিক শ্রদ্ধায় সহাবস্থান করে আসছেন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উৎসব সফল করতে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি এবং আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান।
প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি দীপক কুমার পালিত। তিনি বলেন, রথযাত্রা ভক্তি, সেবা ও মানবকল্যাণের চিরন্তন বার্তা বহন করে। ধর্ম মানুষকে বিভক্ত নয়, বরং ঐক্যবদ্ধ করে বলে মন্তব্য করেন তিনি এবং আশা প্রকাশ করেন, রাষ্ট্র, প্রশাসন ও জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আরও সুদৃঢ় হবে।
ভোরে মঙ্গলারতির মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। এরপর গুরুপূজা, ভাগবত পাঠ, ভজন-কীর্তন ও ভোগারতির আয়োজন করা হয়। বিকেল ৩টায় ডিসি হিল থেকে শুরু হওয়া রথযাত্রার মহাশোভাযাত্রা নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে নিজ নিজ মন্দিরে গিয়ে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় অংশ নেয় শতাধিক ধর্মীয় সংগঠন, বিভিন্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা, যাদের অনেকেই পৌরাণিক সাজে সজ্জিত হয়ে অংশ নেন। প্রায় ৩০ হাজারের বেশি ভক্তের মধ্যে বিতরণ করা হয় মহাপ্রসাদ।
শোভাযাত্রা চলাকালে নগরীর বিভিন্ন মোড়ে নগরবাসী শঙ্খ ধ্বনি, উলুধ্বনি ও মঙ্গল প্রদীপ দিয়ে জগন্নাথ-বলরাম-সুভদ্রাকে অভ্যর্থনা জানান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইসকন নন্দনকানন মন্দিরের অধ্যক্ষ শ্রীপাদ পন্ডিত গদাধর দাস ব্রহ্মচারী এবং স্বাগত বক্তব্য দেন প্রবর্তক মন্দিরের অধ্যক্ষ শ্রীপাদ দারুব্রহ্ম জগন্নাথ দাস ব্রহ্মচারী। বিশেষ আশীর্বাদক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মায়াপুর থেকে আগত শ্রীপাদ কমলাপতি দাস ব্রহ্মচারী ও শ্রীপাদ তারক কৃষ্ণনাম দাস ব্রহ্মচারী। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন ইসকন কমিউনিকেশন বাংলাদেশের চেয়ারম্যান হৃষীকেশ গৌরাঙ্গ দাস, চট্টগ্রাম জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট নিতাই প্রসাদ ঘোষ, সিএমপি দক্ষিণ বিভাগের ডিসি হাবিবুর রহমান প্রামাণিক প্রমুখ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিরা মিলে ভগবান জগন্নাথের আরতি নিবেদন করেন এবং বেলুন উড়িয়ে রথযাত্রার আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন।