প্রকাশ: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ৬:০৮ পিএম
(ভিজিট : ১৯)
মাদকের মরণনেশা থেকে তরুণ প্রজন্ম ও সমাজকে রক্ষায় কঠোর বার্তা পৌঁছে দিতে পটুয়াখালীর বাউফল পৌরসভায় এক ব্যতিক্রমী প্রচারণা চালানো হয়েছে। শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলে পৌর শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডে মাইকিংয়ের মাধ্যমে সরকার গৃহীত মাদকবিরোধী নতুন আইনের ভয়াবহতা সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করা হয়।
প্রচারণায় বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করা হয় যে, মাদক কেনাবেচা, সরবরাহ, বিজ্ঞাপন, মধ্যস্থতা বা যেকোনো লেনদেনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে 'মৃত্যুদণ্ডের' বিধান রেখে সম্প্রতি 'মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিল-২০২৬' পাস হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের এই জিরো টলারেন্স নীতি সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতেই বাউফল উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সামুয়েল আহমেদ লেনিন এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।
নিজের উদ্যোগ সম্পর্কে সামুয়েল আহমেদ লেনিন বলেন, "মাদকের আগ্রাসন আজ আমাদের সমাজকে কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে সাহসী আইনটি প্রণয়ন করেছেন, তা প্রতিটি নাগরিকের জানা প্রয়োজন। কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নয়, বরং মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই আমি এই সচেতনতামূলক প্রচারণা চালিয়েছি। মানুষ যদি আইনের কঠোরতার বিষয়টি সম্পর্কে সম্যক অবগত হয়, তবে অপরাধ প্রবণতা অনেকাংশেই কমে আসবে।"
উল্লেখ্য, সামুয়েল আহমেদ লেনিন এর আগেও তার ব্যক্তিগত বাসভবনের সামনে নানা সামাজিক বার্তা সংবলিত পোস্টার টানিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন। বিশেষ করে বিগত সরকারের আমলে 'ভোট চাহিয়া লজ্জা দিবেন না' সম্বলিত ব্যানার টানিয়ে তিনি দেশজুড়ে সাড়া ফেলেছিলেন।
এই প্রশংসনীয় উদ্যোগ সম্পর্কে বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালেহ আহমদ বলেন, "সমাজকে মাদকমুক্ত করতে ব্যক্তিগত ও সামাজিক পর্যায়ের সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। এমন কার্যক্রম নিঃসন্দেহে অনুসরণযোগ্য।"
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম সিরাজ জানান, "মাদক নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি জনসচেতনতা একটি বড় শক্তি। এই মাইকিংয়ের মাধ্যমে মাদকবিরোধী আইনের বার্তাটি তৃণমূল পর্যন্ত পৌঁছে যাবে, যা অপরাধ দমনে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।"
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি সামাজিকভাবে এমন প্রচারণামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে বাউফলকে একটি মাদকমুক্ত নিরাপদ জনপদ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।