প্রকাশ: রোববার, ৫ জুলাই, ২০২৬, ৮:৩৯ পিএম
(ভিজিট : ১১)
হালদা নদীর জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ রক্ষায় শুধু আইনের কড়াকড়ি নয়, স্থানীয় মানুষের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণও সমান জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। গতকাল শনিবার রাউজানের হালদা নদীতীরবর্তী ছাত্তারঘাট এলাকায় মৎস্যজীবীদের বিকল্প কর্মসংস্থানের জন্য সেলাই মেশিন বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। "হালদা নদীর প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্প (২য় পর্যায়)"-এর আওতায় এই অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়।
মন্ত্রী জানান, সরকার হালদাপাড়ের বাসিন্দাদের জীবনমান উন্নয়নে নানা কর্মসূচি চালাচ্ছে। নতুন প্রকল্পের অধীনে এলাকার শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের দক্ষতা বাড়ানো, নিজস্ব কর্মসংস্থান তৈরি এবং তাদের স্বাবলম্বী করে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
বাসস সূত্রে জানা যায়, মন্ত্রী ঘোষণা দেন যে হালদা নদীতে মাছের পোনা সংগ্রহকারীদের শিগগিরই স্পিডবোট দেওয়া হবে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, এই সহায়তা যেন সঠিকভাবে ব্যবহৃত হয় এবং কোনোভাবেই যেন অবৈধপন্থায় মা-মাছ বা পোনা ধরা না হয়।
মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, কৃষি সেচের জন্য তৈরি বিভিন্ন স্লুইসগেট বর্তমানে হালদায় মাছের স্বাভাবিক চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছে। এই সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে দ্রুত আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। তিনি এও বলেন, যেখানে সেচের জন্য রাবার ড্যাম তৈরি অপরিহার্য, সেখানে বিকল্প হিসেবে সেচ পাম্প সরবরাহের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হবে। প্রসঙ্গক্রমে তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময়কার খাল খনন কর্মসূচির কথাও স্মরণ করেন, যা কৃষি সেচ ও মাছ উৎপাদন দুটোই বাড়িয়েছিল।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন হালদা নদীর দূষণসহ নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য, আর এক্ষেত্রে হালদাপাড়ের মানুষের কল্যাণে সরকার একাধিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
চট্টগ্রাম বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মো. মোতাহার হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক, চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন, রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস. এম. রাহাতুল ইসলাম, হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিন, চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সালমা আক্তার ও রাউজানের সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. তোফাজ্জল হোসেন ফাহিম।
প্রকল্পের পরিচালক মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন স্বাগত বক্তব্য দেন। এছাড়া হাটহাজারী অঞ্চলের ডিম সংগ্রহকারী শফিউল আলম এবং রাউজান অঞ্চলের ডিম সংগ্রহকারী দলের প্রতিনিধি রোসঙ্গী আলম শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন।