প্রকাশ: রোববার, ৫ জুলাই, ২০২৬, ৮:২৬ পিএম
(ভিজিট : ১৩)
চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কমপ্লেক্স ট্রাস্টের রেজুলেশন জাল করা এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্টের স্বাক্ষরকারী পরিবর্তন করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলার একমাত্র নামীয় আসামি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম খান আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন। গত বুধবার চট্টগ্রাম ৫ম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করে তিনি জামিনের আবেদন করলে উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত পরবর্তী ধার্য তারিখ পর্যন্ত তার জামিন মঞ্জুর করেন।
শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জাহাঙ্গীর আলম খানকে ৯০ বছর বয়সী প্রবীণ ও অসুস্থ ব্যক্তি হিসেবে তুলে ধরে জামিনের আবেদন করেন। তবে জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী তার প্রকৃত বয়স ৮২ বছর বলে জানা গেছে।
জামিন আদেশের পর বাদীপক্ষের প্রধান আইনজীবী অ্যাডভোকেট এ এম জিয়া হাবীব আহসান সাংবাদিকদের জানান, চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতালের চেয়ারম্যান এম এ মালেক খুলশী থানায় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় এই মামলাটি দায়ের করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, জাহাঙ্গীর আলম খান তার অজ্ঞাতনামা সহযোগীদের সঙ্গে যোগসাজশে ট্রাস্টের নিয়মকানুন লঙ্ঘন করে ২০২৫ সালের ২৬ জুলাই সিআইআইটিসি ট্রাস্ট বোর্ডের একটি ভুয়া সভা আহ্বান করেন এবং পূর্বের বৈধ সিদ্ধান্তের বিপরীতে একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত রেজুলেশন তৈরি করেন। এছাড়া বৈধ চেয়ারম্যানকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে তিনি ৯১তম, ৯২তম ও ২০২৫ সালের ২৪ অক্টোবর ৯৩তম সভাও আহ্বান করেন বলে অভিযোগ। এসব সভার আগে বৈধ চেয়ারম্যান বা ট্রাস্টিদের কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে।
আইনজীবী আরও জানান, আসামি নিজেকে অবৈধভাবে ট্রাস্ট বোর্ডের সদস্য দেখিয়ে এবং আরও ৭-৮ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির সহায়তায় ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংকে জাল কাগজপত্র জমা দিয়ে অ্যাকাউন্টের স্বাক্ষরকারী পরিবর্তন করেন। এভাবেই প্রতিষ্ঠানের কোটি কোটি টাকার তহবিল অবৈধভাবে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ, যার দালিলিক প্রমাণ প্রতিষ্ঠানের কাছে সংরক্ষিত আছে বলে দাবি করা হয়েছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, জাহাঙ্গীর আলম খানের বিরুদ্ধে খুলশী থানার আরেকটি মামলায় চিকিৎসাখাতের ৮৫০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দাখিলকৃত চার্জশিটেও ৩ নম্বর আসামি হিসেবে তার নাম রয়েছে। ওই মামলায় উচ্চ আদালত তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা এবং নিম্ন আদালত পাসপোর্ট জব্দের আদেশ দিয়েছিল।
বাদীপক্ষের আইনজীবী জিয়া হাবিব আহসান জানান, এই মামলায় আরও ৭-৮ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি জড়িত রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। মামলার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে মূল আসামি জাহাঙ্গীর আলম খানকে জিজ্ঞাসাবাদ করা অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।