আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) থেকে শুরু হতে যাচ্ছে এ বছরের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা। সকাল ১০টায় বাংলা প্রথম পত্র দিয়ে শুরু হওয়া এই লিখিত পরীক্ষা চলবে ৮ আগস্ট পর্যন্ত, এরপর শুরু হবে ব্যবহারিক পরীক্ষার পালা।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবার পরীক্ষায় বসছেন প্রায় ৯৯ হাজার ৬৮৮ জন শিক্ষার্থী, যারা পড়াশোনা করেছেন চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং পার্বত্য তিন জেলা রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ির মোট ২৮৩টি কলেজে। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে অংশ নেবেন ২৩ হাজার ৯০৩ জন (১১ হাজার ২৫৫ জন ছাত্র, ১২ হাজার ৬৪৮ জন ছাত্রী), মানবিক বিভাগ থেকে ৪৪ হাজার ২৩৮ জন (১৬ হাজার ৩৪২ জন ছাত্র, ২৭ হাজার ৮৯৬ জন ছাত্রী) এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে ৩১ হাজার ৫৩৯ জন (১৫ হাজার ৫৮৫ জন ছাত্র, ১৫ হাজার ৯৫৪ জন ছাত্রী)। এককভাবে শুধু চট্টগ্রাম জেলা থেকেই পরীক্ষা দেবেন ৭০ হাজার ৯৭৪ জন শিক্ষার্থী।
চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী গণমাধ্যমকে জানান, পরীক্ষার সব প্রস্তুতি ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে এবং নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রশ্নফাঁস নিয়ে গুজব ঠেকাতে ও পরীক্ষার্থীদের নিরাপদ রাখতে পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে সব কোচিং সেন্টার। পরীক্ষা তদারকিতে গঠন করা হয়েছে ২৩টি ভিজিল্যান্স টিম, যার মধ্যে ১৫টি সাধারণ ও ৮টি বিশেষ দল। এ বছর মোট ১১৪টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে, চট্টগ্রাম জেলায় ৬৮টি (যার ২৬টি মহানগরে), কক্সবাজারে ১৮টি, বান্দরবানে আটটি, আর রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে ১০টি করে।
পরীক্ষার্থীদের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনাও দিয়েছে বোর্ড। পরীক্ষা শুরুর আধা ঘণ্টা আগে আসন গ্রহণ করতে হবে বাধ্যতামূলকভাবে। প্রথমে হবে বহুনির্বাচনি (এমসিকিউ), পরে সৃজনশীল অংশ, দুই অংশের মাঝে কোনো বিরতি থাকবে না। সাধারণ বিষয়ে ৩০ নম্বরের এমসিকিউর জন্য সময় ৩০ মিনিট ও ৭০ নম্বরের সৃজনশীলের জন্য ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট বরাদ্দ; ব্যবহারিক বিষয়যুক্ত পরীক্ষার ক্ষেত্রে ২৫ নম্বরের এমসিকিউতে ২৫ মিনিট এবং ৫০ নম্বরের সৃজনশীলে ২ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট সময় পাবে শিক্ষার্থীরা। প্রবেশপত্র সংগ্রহ করতে হবে নিজ প্রতিষ্ঠান থেকে অন্তত সাত দিন আগে, আর উত্তরপত্র কোনোভাবেই ভাঁজ করা যাবে না। শুধু কাঁটাযুক্ত সাধারণ ঘড়ি ও নন-প্রোগ্রামেবল সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটর ব্যবহারের অনুমতি থাকলেও মোবাইল ফোন কেন্দ্রে নেওয়া যাবে না কোনোভাবেই।
নিরাপত্তার দিক থেকেও কড়াকড়ি আরোপ করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। নগরের সব পরীক্ষাকেন্দ্রের ২০০ গজের মধ্যে জারি করা হয়েছে ১৪৪ ধারা, যা পরীক্ষা চলাকালীন পুরো সময়জুড়ে বলবৎ থাকবে। সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলীর স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, পরীক্ষা শুরুর এক ঘণ্টা আগে থেকে শেষ হওয়ার এক ঘণ্টা পর পর্যন্ত কেন্দ্র এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্র-বিস্ফোরক বহন, লাঠিসোঁটা, সভা-সমাবেশ-মিছিল, উচ্চ শব্দ সৃষ্টিকারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার এবং অননুমোদিত বহিরাগতদের প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে। নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে নেওয়া হবে কঠোর আইনি ব্যবস্থা। এ ছাড়া প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে পরীক্ষা চলাকালীন কেন্দ্রসংলগ্ন সব ফটোকপির দোকান বন্ধ রাখারও নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ।
তবে এসবের মধ্যেও অভিভাবকদের ঘুম কাড়ছে আরেকটি বিষয় তীব্র লোডশেডিং। দিনের বেলায় গড়ে ৪-৫ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকা এবং একবার গেলে ফিরতে ২-৩ ঘণ্টা সময় লাগার অভিজ্ঞতা পরীক্ষার্থীদের জন্য বাড়তি দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, বিশেষত সন্ধ্যা থেকে রাতের দিকে। বিষয়টি মাথায় রেখে চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ২৮ জুন বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) প্রধান নির্বাহীকে চিঠি দিয়ে পরীক্ষা চলাকালীন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতের অনুরোধ জানিয়েছে। বোর্ডের সচিব প্রফেসর জহিরুল হক স্বপন গণমাধ্যমকে বলেন, বিপিডিবি কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে আন্তরিক সাড়া দিয়েছে এবং শিক্ষার্থীরা সুষ্ঠু পরিবেশেই পরীক্ষা দিতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।