প্রকাশ: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ৮:৩০ পিএম
(ভিজিট : ১৯)
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় একটি হৃদয়বিদারক ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। একটি পরিবারের মা এবং কিশোরী মেয়ের নিষ্প্রাণ দেহ বাসায় পাওয়া গেছে, যখন তাদের ছোট্ট ছেলে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসা পাচ্ছে।
শনিবার রাতের গভীর অন্ধকারে পরৈকোড়া ইউনিয়নের চেনামতি বড়ুয়া পাড়ায় চিৎকারের শব্দ ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিবেশীরা সেই করুণ আহ্বান শুনে তাৎক্ষণিক ছুটে যান প্রতিবেশী সুজন বড়ুয়ার বাসায়।
ঘটনাস্থলে পৌঁছে তারা এক বিভৎস দৃশ্য দেখতে পান। বাড়ির দরজার সামনে এনি বড়ুয়া এবং তার ছোট ছেলে পিয়াসকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। ঘরের ভেতরে তারা মেয়ে প্রিয়ন্তীর রক্তাক্ত মরদেহ খুঁজে পান।
এই দুর্ঘটনায় দুজন মানুষ জীবন হারিয়েছেন। এনি বড়ুয়া (৪০ বছর) - পরিবারের মা। হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তিনি প্রাণ হারান। প্রিয়ন্তী বড়ুয়া (১৬ বছর) - তাদের কিশোরী মেয়ে। ঘরের ভেতরে তার নিথর দেহ পাওয়া যায়। পিয়াস বড়ুয়া (৫ বছর) - ছোট্ট শিশু টি গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে এবং চিকিৎসা পাচ্ছে।
এনি বড়ুয়ার স্বামী সুজন বড়ুয়া ঘটনার সময় চট্টগ্রাম শহরের খাতুনগঞ্জে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করছিলেন। রাত জেগে পরিবারের সদস্যদের দ্রুত ফোন কল পেয়ে তিনি তাড়াহুড়ো করে বাড়িতে ফিরে আসেন। বাড়িতে প্রবেশ করে তিনি তার প্রিয়জনদের এই অবস্থা দেখে হতবাক হয়ে যান।
সুজন বড়ুয়া পুলিশকে জানিয়েছেন যে তার স্ত্রী মৃত্যুর আগে একটি নাম উচ্চারণ করেছিল। তিনি দাবি করেন যে প্রতিবেশী লিমন বড়ুয়ার সাথে তাদের পারিবারিক আর্থিক বিষয় নিয়ে মতবিরোধ ছিল। এই কারণেই লিমন বড়ুয়ার এই ঘটনায় সম্পৃক্ততা থাকতে পারে বলে তিনি সন্দেহ করছেন।
আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জুনায়েত চৌধুরী জানিয়েছেন যে পুলিশ তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে মা ও মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করেছে। দুটি মরদেহই চিকিৎসা পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে যাতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয় করা যায়। পুলিশ দলটি এখন সম্পূর্ণ তদন্তে নিয়োজিত রয়েছে এবং অপরাধীদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে কাজ করছে।