ওমান উপকূলে একটি বাণিজ্যিক ট্যাংকার ‘সেত্তেবেলোতে’ হামলার ঘটনায় তিন ভারতীয় নাবিক নিখোঁজ হন। নিখোঁজ নাবিকদের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে ভারত।
এর আগে বলা হয়, পারস্য উপসাগরে একটি ট্যাংকারে মার্কিন হামলায় দুই ভারতীয় নাবিক নিহত এবং একজন নিখোঁজ হয়েছেন। তবে পরে নিখোঁজ ব্যক্তিটিকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। ভারতের জাহাজ চলাচল মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল বৃহস্পতিবার নিশ্চিত করেছেন, নিখোঁজ তিন ভারতীয় নাবিকই মারা গেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ওমান উপকূলে তেলবাহী ট্যাংকারটিতে হামলা চালায়।
নিহত দুজন হলেন ডেক ক্যাডেট আদিত্য শর্মা এবং ইঞ্জিন ফিটার শিবানন্দ চৌরাসিয়া এবং ইঞ্জিনিয়ার পাটনালা সুরেশ। জাহাজ থেকে মোট ২১ জন ভারতীয় নাবিককে উদ্ধার করা হয়েছে।
ট্যাংকারটিতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘প্রিসিশন মুনিশন’ দিয়ে হামলা চালানো হয়। প্রিসিশন-গাইডেড মুনিশন হলো, উন্নত প্রযুক্তির বোমা বা ক্ষেপণাস্ত্র।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, জাহাজটি ইরান থেকে তেল পরিবহনের চেষ্টা করে চলমান অবরোধ লঙ্ঘন করছিল।
তাদের দাবি, পালাউ পতাকাবাহী এই ট্যাংকারটি ওমান উপসাগর অতিক্রম করার সময় নির্দেশনা না মানায় জাহাজের ইঞ্জিনকক্ষে বিমান হামলা চালানো হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে তারা হামলার ভিডিওও প্রকাশ করেছে।
এই হামলার পর ভারত মার্কিন দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অফ মিশন জেসন মিকসকে তলব করে একটি কঠোর প্রতিবাদ জানিয়েছে। ওমানের উপকূলে মার্কিন বাহিনী কর্তৃক তেল ট্যাংকার ‘মারিভেক্স’-এ আঘাত হানার দুই দিন পর এই হামলাটি ঘটল। সেখান থেকে ২৪ জন ভারতীয় নাবিককে উদ্ধার করা হয়েছিল।
বুধবারের (১০ জুন) এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘ওমানে আমাদের দূতাবাস পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং চলমান অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানে ওমানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সমন্বয় করছে।’
সামুদ্রিক গোয়েন্দা ওয়েবসাইট লয়েডস লিস্ট জানিয়েছে, ‘ট্যাংকারটি সম্প্রতি দুকম (ওমান)-এর উপকূলে অপেক্ষারত অনেকগুলো জাহাজের মধ্যে একটি ছিল, যেগুলো মার্কিন নৌবাহিনীর হেফাজতে ছিল বলে জানা গেছে।’
এর আগে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস একটি সতর্কতা জারি করে জানায়, ওমানের সোহার থেকে প্রায় ২০ নটিক্যাল মাইল উত্তর-পূর্বে একটি ট্যাংকারের ইঞ্জিন কক্ষে আগুন লেগেছে এবং তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে নাবিকদের উদ্ধার কাজে সহায়তা করে। এতে বলা হয়, জাহাজটিতে একজন নিহত হয়েছেন এবং আরো দুইজন নাবিক নিখোঁজ রয়েছেন।
ব্রিটিশ মেরিটাইম নিরাপত্তা সংস্থা ভ্যানগার্ড টেকের উদ্ধৃতি দিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাহাজটি একটি বিপদ সংকেত পাঠিয়েছিল। সেখানে জানানো হয়, এর ইঞ্জিন কক্ষে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে।
এদিকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে বাণিজ্যিক জাহাজে ধারাবাহিক হামলার ঘটনা ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক’ এবং এটি চলমান সংঘাতের সরাসরি ফল।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, বাণিজ্যিক জাহাজ ও বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এই অঞ্চলের জলপথে অবাধ ও নিরাপদ চলাচল ও বাণিজ্য যত দ্রুত সম্ভব পুনরুদ্ধার করা জরুরি।