প্রকাশ: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ৮:৩৫ পিএম (ভিজিট : )
জরিমানা বাতিল, টোকেন ব্যবসা বন্ধ ও লাইসেন্স প্রদানসহ ৬ দফা দাবিতে আজ সোমবার (৮ জুন) বিকেলে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ মোড়ে রাস্তায় নামলেন রিকশা, ব্যাটারি রিকশা ও ইজিবাইক চালকরা। রিকশা ব্যাটারি রিকশা ও ইজিবাইক সংগ্রাম পরিষদ, চট্টগ্রাম মহানগর শাখার আয়োজনে বিকেল ৩টায় সেখানে মানববন্ধন, সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। পরে ট্রাফিক পুলিশ কমিশনার (বন্দর-পশ্চিম) বরাবর স্মারকলিপি পেশ করা হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগ্রাম পরিষদের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের আহ্বায়ক মো. মারুফ হোসেন। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাসদ চট্টগ্রাম জেলা ইনচার্জ ও ইজিবাইক সংগ্রাম পরিষদ মহানগর শাখার আহ্বায়ক আল কাদেরী জয়। এ ছাড়া বক্তব্য দেন মো. মহিন উদ্দিন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট চট্টগ্রাম নগর শাখার সভাপতি মিরাজ উদ্দিনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। সমাবেশ পরিচালনা করেন ইজিবাইক সংগ্রাম পরিষদের সদস্য আহমদ জসিম।
বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাটারি রিকশা আটক করে শ্রমিকদের হয়রানি করা হচ্ছে। গাড়ি আটকের পর প্রায় এক মাস পর্যন্ত আটকে রেখে রেকার বিলসহ ৩ হাজার ২৫০ টাকা জরিমানা আদায় করা হচ্ছে। এতে চালকরা আয়-রোজগার হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন। একইসঙ্গে বিভিন্ন সড়কে স্থানীয় মাস্তানদের টোকেন ব্যবসা ও চাঁদাবাজির কারণে চালকদের জীবিকা আরও সংকটে পড়েছে।
বক্তারা আরও জানান, ২০২২ সালে সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুযায়ী দেশের ২২টি মহাসড়ক ছাড়া অন্যত্র নীতিমালার আওতায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচলের কথা বলা হয়েছিল। অথচ সরকার এখনো লাইসেন্স ও রুট পারমিট দেয়নি, বরং পুলিশি হয়রানি অব্যাহত রয়েছে। চট্টগ্রামের মতো বড় শহরে এই যানবাহন যাতায়াতের অন্যতম সহজলভ্য ও বিদ্যুৎসাশ্রয়ী মাধ্যম হিসেবে পরিচিত। তাই শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
সমাবেশ থেকে যে ৬ দফা দাবি তুলে ধরা হয় তা হলো- নগরীর গলি ও পাড়া-মহল্লার ভেতর থেকে ব্যাটারি রিকশা আটক বন্ধ করতে হবে। সাদা পোশাকে পুলিশের সোর্স দিয়ে অবৈধভাবে গাড়ি আটক বন্ধ করতে হবে। নগরীর বিভিন্ন সড়কে পার্কিং ও ক্রসিংয়ের ব্যবস্থা করে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে হবে। রেকার বিলের (৭৫০ টাকা) বাইরে অতিরিক্ত ২৫০০ টাকা জরিমানা অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। আটককৃত গাড়ি এক সপ্তাহের মধ্যে ছেড়ে দিতে হবে। বিআরটিএ অনুমোদিত লাইসেন্স, নীতিমালা, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও রুট পারমিট প্রণয়ন করতে হবে।
নেতারা সতর্ক করে দেন, দাবি পূরণ না হলে আগামীতে আরও কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।