দেশের চলচ্চিত্র ও নাটকে মাদক, অতিরিক্ত সহিংসতা এবং নারীদের অবমাননাকর উপস্থাপনা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জনপ্রিয় গীতিকার, সুরকার ও সংগীত পরিচালক প্রিন্স মাহমুদ।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং সংশ্লিষ্টদের আরো দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান।
পোস্টে প্রিন্স মাহমুদ বলেন, দেশের চলচ্চিত্র ও নাটকে মাদক, অপ্রয়োজনীয় সহিংসতা এবং নারীদের অসম্মানজনকভাবে উপস্থাপনের প্রবণতা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি আপত্তিকর কনটেন্টের প্রচার দ্রুত বন্ধের দাবি জানান।
শিশু রামিসার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, একদিকে সমাজে অপরাধের বিচার দাবি করা হবে, অন্যদিকে বিনোদনের মাধ্যমে একই ধরনের অপরাধ ও সহিংসতাকে আকর্ষণীয়ভাবে তুলে ধরা হবে— এ ধরনের অবস্থান কতটা যৌক্তিক।
প্রিন্স মাহমুদের মতে, দেশের প্রচলিত আইন ও তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী অনেক ধরনের আপত্তিকর কনটেন্ট প্রচারের সুযোগ নেই।
তিনি দাবি করেন, সমাজের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি একদিকে মাদক ও সহিংসতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিলেও অন্যদিকে একই ধরনের কনটেন্টে বিনিয়োগ করছেন, যা বিস্ময়কর।
তিনি আরো অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে সিনেমা হলে বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিদের দিয়ে এসব কনটেন্টের প্রশংসা করানোর প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। গত দুই বছরে এ ধরনের ঘটনা বেড়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জনপ্রিয়তার জন্য কিছু শিল্পী নিজেদের সামাজিক দায়বদ্ধতার বিষয়টি ভুলে যাচ্ছেন বলেও মনে করেন প্রিন্স মাহমুদ। তার মতে, এটি শিল্প ও সংস্কৃতির জন্য উদ্বেগজনক।
ফেসবুক পোস্টে তিনি সবাইকে এ বিষয়ে সচেতন ও সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান। তার ভাষ্য, পর্দা বা মঞ্চে মাদক, অপরাধ ও সহিংসতার অতিরিক্ত উপস্থিতি তরুণদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে কিশোরদের মধ্যে আগ্রাসী মনোভাব তৈরি হওয়ার আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
এ ছাড়া নারীদের পণ্য হিসেবে উপস্থাপন বা অসম্মানজনকভাবে দেখানো সমাজে লিঙ্গবৈষম্য এবং নারী নির্যাতনের সংস্কৃতিকে উৎসাহিত করতে পারে বলেও মন্তব্য করেন এই গুণী সংগীত পরিচালক।
প্রিন্স মাহমুদের এ বক্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশের প্রেক্ষাগৃহে একাধিক নতুন সিনেমা মুক্তি পেয়েছে।
তবে নিজের পোস্টে তিনি কোনো নির্দিষ্ট সিনেমা, নাটক বা ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেননি। বরং সামগ্রিকভাবে বিনোদন মাধ্যমে মাদক, সহিংসতা এবং নারীদের অবমাননাকর উপস্থাপনার বিরুদ্ধে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।