প্রকাশ: সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:৫৫ পিএম
(ভিজিট : ২৭২)
শ্রমিক দিবসকে সামনে রেখে দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের দাবিতে আন্দোলন জোরদার হচ্ছে। দেশটির প্রায় ১০ জন কর্মীর মধ্যে ৪ জনই মে দিবসে বেতনসহ ছুটি পাওয়ার নিশ্চয়তা পান না—যা শ্রম অধিকারের ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়, বিশেষ করে অনিয়মিত ও অস্থায়ী কর্মীদের জন্য। নাগরিক সংগঠন Workplace Gabjil 119-এর নির্দেশনায় ‘গ্লোবাল রিসার্চ’ পরিচালিত এক জরিপে এ চিত্র উঠে এসেছে। গত ২ থেকে ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১,০০০ কর্মীর ওপর পরিচালিত ওই জরিপে দেখা যায়, ৩৫.২ শতাংশ কর্মী মে দিবসে বেতনসহ ছুটি পাবেন কি না, তা নিশ্চিত নন।
কর্মসংস্থানের ধরনভেদে বৈষম্য কর্মসংস্থানের ধরন অনুযায়ী এই বৈষম্য আরও প্রকট। দৈনিকভিত্তিক শ্রমিকদের মধ্যে ৬০ শতাংশই বেতনসহ ছুটি পান না ফ্রিল্যান্সারদের ক্ষেত্রে এই হার ৫৯.৩ শতাংশ,পার্ট-টাইম কর্মীদের ক্ষেত্রে ৫৭ শতাংশ,আউটসোর্সিং কর্মীদের ক্ষেত্রে ৪০ শতাংশ অন্যদিকে বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের মধ্যে মাত্র ১৬.৫ শতাংশ এই সমস্যার সম্মুখীন হন। এতে বোঝা যায়, স্থায়ী ও প্রাতিষ্ঠানিক কর্মসংস্থানে থাকা কর্মীরা তুলনামূলক বেশি আইনি সুরক্ষা পান।
আইনি প্রেক্ষাপট : দক্ষিণ কোরিয়ায় ১৯৯৪ সালে মে দিবসকে বেতনসহ ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা করা হয়। তবে Labor Standards Act-এর বিভিন্ন ব্যাখ্যার কারণে সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক ও ডেলিভারি কর্মীদের মতো কিছু শ্রেণিকে “বিশেষ কর্মসংস্থান” হিসেবে বিবেচনা করা হতো, ফলে তাদের ছুটির বিষয়টি অস্পষ্ট ছিল।
চলতি বছরের শুরুতে সরকার আইন সংশোধনের মাধ্যমে মে দিবসকে সরকারি ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা করেছে। ফলে এখন কমিউনিটি সার্ভিস সেন্টার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সব সরকারি প্রতিষ্ঠান এদিন বন্ধ থাকবে।
বেতন কাঠামো: মে দিবসে কাজ করলে শ্রমিকরা স্বাভাবিকের তুলনায় সর্বোচ্চ ২.৫ গুণ পর্যন্ত মজুরি পেতে পারেন। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা অনুযায়ী এতে অন্তর্ভুক্ত— ১০০% নিয়মিত মজুরি ৫০% অতিরিক্ত ছুটির প্রিমিয়াম ১০০% বেতনসহ ছুটির ক্ষতিপূরণ তবে মাসিক বেতনভুক্ত কর্মীদের ক্ষেত্রে ছুটির বেতন আগেই অন্তর্ভুক্ত থাকে। তাই তারা মে দিবসে কাজ করলে অতিরিক্ত ৫০% প্রিমিয়ামসহ মোট ১৫০% বেতন পান।
বিশেষজ্ঞের মতে Park Sung-woo, Workplace Gabjil 119-এর অনলাইন ইউনিয়নের প্রধান, বলেন—“অনেক কর্মী এখনও শ্রম আইনের সুরক্ষার বাইরে রয়ে গেছেন। শ্রম আইন সব কর্মীর জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়া জরুরি। উল্লেখ্য, OECD-এর ৩৮টি সদস্য দেশের মধ্যে ৩৪টি দেশই মে দিবসকে সরকারি ছুটির দিন হিসেবে পালন করে।