প্রকাশ: বুধবার, ১৮ মার্চ, ২০২৬, ৭:২৩ পিএম
(ভিজিট : ১৮৬)
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলায় দাম্পত্য বিরোধের জেরে ঘটে গেল এক হৃদয়বিদারক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা। দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহের ভয়াবহ পরিণতিতে স্বামীর লিঙ্গ কর্তনের অভিযোগে স্ত্রী থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেছেন। গত ১৩ মার্চ দিবাগত রাত আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামে সংঘটিত এ ঘটনা স্থানীয় জনপদে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
আহত ব্যক্তি মোঃ লিটন শেখ (৪৬), তিনি একই গ্রামের বাসিন্দা মোঃ সাইম শেখের ছেলে। স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় ১৬ থেকে ১৭ বছরের দাম্পত্য জীবনে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই পারিবারিক অশান্তি ও বিরোধ চলছিল। সম্প্রতি সেই বিরোধ চরম আকার ধারণ করলে পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে।
অভিযোগ অনুযায়ী, লিটন শেখের স্ত্রী মোসাঃ আকলিমা আক্তার পরিকল্পিতভাবে এ নৃশংস ঘটনার সঙ্গে জড়িত। ঘটনার পরদিন সকালে তিনি নিজেই মোরেলগঞ্জ থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন। পুলিশ তাকে তাৎক্ষণিক হেফাজতে নিয়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে।
ঘটনার পর গুরুতর আহত অবস্থায় লিটন শেখকে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হলেও অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ায় তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, তার শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের প্রায় ৬০ শতাংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মোরেলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মাহমুদুর রহমান জানান, অভিযুক্ত নারী স্বেচ্ছায় থানায় এসে আত্মসমর্পণ করেছেন। এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক, ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, পারিবারিক বিরোধ কখনোই সহিংসতায় রূপ নেওয়া উচিত নয়। তারা দ্রুত, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পারিবারিক কলহ দীর্ঘদিন অমীমাংসিত থাকলে তা মানসিক চাপ ও সহিংসতার ঝুঁকি বাড়ায়। তাই সামাজিক সচেতনতা, পারিবারিক পরামর্শ ও আইনি সহায়তা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে এসেছে এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে।