প্রকাশ: রোববার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:০১ পিএম
(ভিজিট : ৯১)
চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলায় কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি কাটা ও বিক্রির মহাউৎসব যেন থামছেই না। পরিবেশ আইন অমান্য করে প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় ফসলি জমির উর্বর মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। এতে একদিকে কৃষিজমির উৎপাদনক্ষমতা নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে পরিবেশের ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ভারী ট্রাক ও ট্রাক্টর চলাচলের কারণে ভেঙে পড়ছে এলাকার সড়ক-ঘাটও।
অভিযোগ রয়েছে, অসাধু ব্যবসায়ীরা কৃষকদের নানা প্রলোভন দেখিয়ে কম দামে জমি কিনে বা চুক্তিতে নিয়ে উপরিভাগের উর্বর মাটি বেশি দামে বিক্রি করছে। এসব মাটি ইটভাটা, ভিটা উঁচু করা ও বিভিন্ন নির্মাণকাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বাছাইয়া, ঘাগড়া, দোয়াটি ও তেতৈয়া বিল এলাকায় প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ট্রাকের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। ইতোমধ্যে কয়েক শত একর ফসলি জমি গভীর গর্তে পরিণত হয়েছে। ফলে পাশের জমিগুলোও ধসে পড়ছে এবং অনেক স্থানে সেচের পানি পৌঁছাতে পারছে না। এতে উৎপাদন ব্যাহত হয়ে কৃষকরা পড়ছেন চরম আর্থিক ক্ষতিতে।
বাছাইয়া গ্রামের কৃষক রঞ্জিত বলেন, “আমার পাশের জমি থেকে মাটি কেটে নেওয়ায় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। কিছুদিনের মধ্যে আমার জমিও বিলীন হয়ে যাবে। এই জমির ফসলেই আমার সংসার চলে।”
অন্যদিকে মাটি ব্যবসায়ী মকবুল সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, “আইনে কী বলা আছে জানি না, তবে আমি কৃষকের কাছ থেকে মাটি কিনে বিক্রি করি।”
এ বিষয়ে কচুয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবু নাছির জানান, “কৃষিজমি থেকে মাটি উত্তোলন সম্পূর্ণ অবৈধ। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। খবর পেলেই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। যারা অবৈধভাবে মাটি কাটবে, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।”
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, অবিলম্বে কঠোর নজরদারি ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমে কৃষিজমি রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় ভবিষ্যতে খাদ্য উৎপাদনে বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি হতে পারে