প্রকাশ: শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০২৬, ৯:১০ পিএম (ভিজিট : ২৫৮)
চলন্ত ট্রেনের বন্ধ দরজার বাইরে ঝুলে থাকা এক তরুণ হকারের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, মাথার ওপর পানির বোতল ও জুসের বোঝা নিয়ে তিনি দরজার হাতল ধরে ঝুলে আছেন এবং বারবার ট্রেনটি থামানোর জন্য অনুনয় করছেন। একপর্যায়ে ট্রেন থেকে ছিটকে পড়ে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।
রেল পুলিশ জানিয়েছে, ছিটকে পড়া ওই হকারের নাম হৃদয়। তিনি ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলার রাগাইচটি গ্রামের বাসিন্দা এবং আব্দুল হান্নানের ছেলে । হৃদয় জানায় তার বাড়ি সিলেটের হবিগজ্ঞ জেলার নবীগঞ্জ থানার বাসিন্দা।দীর্ঘ ৮ বছর যাবৎ গফরগাঁও রেল স্টেশনের কাছে রাঘাইচটি এলাকায় থাকে। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হলেও তিনি প্রাণে বেঁচে আছেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাজেন্দ্রপুর এলাকা থেকে পানি বিক্রির উদ্দেশ্যে মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনে ওঠার চেষ্টা করেন হৃদয়। ট্রেনটি ধীরগতিতে একটি সেতু পার হওয়ার সময় তিনি বন্ধ দরজার বাইরে ঝুলে পড়েন। ফার্স্ট ক্লাস বগির দরজায় তালা থাকায় ভেতরে ঢুকতে পারেননি তিনি।
হৃদয় পুলিশকে জানান, ভাঙাব্রিজ এলাকা থেকে তিনি ট্রেনের দরজায় ঝুলে পড়েন। ট্রেন চলতে শুরু করলে তিনি ভেতরের যাত্রী ও রেলের কর্মীদের কাছে দরজা খুলে দেওয়ার অনুরোধ করেন। তবে কেউ দরজা না খোলায় দীর্ঘ সময় ঝুলে থাকতে হয় তাকে। মাথায় থাকা প্রায় ৩০ কেজি ওজনের পানির বোতল ও জুসের ঝুড়ির ভারে একপর্যায়ে তার হাত-পা অবশ হয়ে আসে। প্রাণভয়ে তিনি চিৎকার করতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত আর ধরে রাখতে না পেরে চলন্ত ট্রেন থেকে লাফিয়ে পড়েন।
ঘটনার পর ইজ্জতপুর স্টেশনের কাছে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকরা তার মাথায় আটটি সেলাই দেন এবং হাত-পায়ের জখমের চিকিৎসা করেন। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রেলওয়ে পুলিশ দাবি করেছে, ঘটনার সময় ট্রেনে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা অন্য বগিতে থাকায় বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে জানতে পারেননি।
এ ঘটনায় ট্রেনে যাত্রী নিরাপত্তা, দরজা তালাবদ্ধ রাখা এবং হকারদের ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াত নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে রেল কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনার সমালোচনা করেছেন এবং এ ধরনের ঘটনা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।