প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৪, ৭:২২ পিএম (ভিজিট : ২০)
নরসিংদীর আদালত চত্বর থেকে হত্যা মামলা এবং থানা থেকে ডাকাতি মামলার আসামীদের ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। ৩০ ডিসেম্বর দুপুরে নরসিংদী জেলা ও দায়রা জজ আদালত চত্বরে ও মাধবদী থানায় পৃথক এ দুটি ঘটনা ঘটে। এ সময় দূর্বৃত্তদের হামলায় মনোহরদী থানার উপপরিদর্শক মোঃ টুটুল আহত হন। অপরদিকে দূর্বৃত্তরা মাধবদী থানায় হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আদালত প্রাঙ্গণে ১০/১২ জনের একদল দুর্বৃত্ত পুলিশকে উত্ত্যক্ত করে আসামীদের ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। এসময় পুলিশের সাথে হাতাহাতির ঘটনায় পুলিশের ওই কর্মকর্তা হাতে আঘাতপ্রাপ্ত হন। পরে অন্যান্য পুলিশের সহায়তায় আসামীদের আদালতের এজলাসে ঢুকিয়ে রাখে। আহত ওই পুলিশ কর্মকর্তা নরসিংদী জেলা হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নেন। আহত পুলিশ জানান, চলতি বছরের নভেম্বর মাসে মনোহরদীতে মানসিক ভারসাম্যহীন এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে গত রবিবার সেলিম মিয়া (২৯) ও পারভেজ মিয়া (২৩) নামে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। সোমবার দুপুরে আদালতে হাজির করার জন্য আদালতে নেওয়া হয়। আদালতে প্রবেশের সময় ১০ থেকে ১৫ জনের একটি দল আসামীদের ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় তাদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়। এক পর্যায়ে আদালতের অন্য পুলিশ সদস্যরা এগিয়ে এলে তারা পালিয়ে যান। পরে দ্রুত আসামীদের আদালতের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়। এ ব্যাপারে নরসিংদী মডেল থানায় মামলা দায়ের প্রতিক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও তিনি জানান।
অপর আরেক ঘটনায় সদর উপজেলার মাধবদীতে ডাকাতি মামলার আসামীকে ছিনিয়ে নিতে মাধবদী থানায় হামলা ও ভাংচুর করেছে দুর্বৃত্তরা। একই দিন বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে তেলবোঝাই ট্রাক ছিনতাইয়ের আসামীদের ছিনিয়ে নিতে দুর্বৃত্তরা এ হামলা চালায়। এ সময় তারা থানার কাঁচের দরজা-জানালা ভাংচুর এবং ভেতরে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। তবে এ হামলায় থানার কোনো পুলিশ সদস্য আহত হয়নি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ নজরুল ইসলাম জানান, তবে হামলাকারীরা থানা থেকে কোনো আসামি ছিনিয়ে নিতে পারেনি। খবর পেয়ে ডিবি পুলিশ ও অতিরিক্ত পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে অবস্থান নেয়। হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মোঃ কলিমুল্লাহ। তিনি বলেন, দুটি কারণে থানায় হামলা হতে পারে। প্রথমত, আমাদের মাধবদী থানা পুলিশ ডাকাতির একটি মামলায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চার আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের ছিনিয়ে নিতে এ হামলা হতে পারে। দ্বিতীয়ত, রেজিস্ট্রেশনবিহীন একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে, এটি নিয়ে যেতেও হামলার ঘটনা ঘটতে পারে। তিনি আরও বলেন, ‘যারা হামলা চালিয়েছে তারা সবাই স্থানীয় বাসিন্দা। তদন্তের স্বার্থে তাদের পরিচয় প্রকাশ করা যাচ্ছে না। তবে বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।